উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ
তিনবার পিছিয়ে পড়েও ব্রুজের মাঠে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল বার্সেলোনা
বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে তিনবার পিছিয়ে পড়েছিলো বার্সেলোনা। তিনবারই সমতায় ফিরেছে কাতালানরা, আদায় করে নিয়েছে এক পয়েন্ট। অবশ্য শেষ মুহূর্তে গোলকিপার ভয়চেক সেজনিকে ফাউলের কারণে রেফারি গোল বাতিল না করলে এক পয়েন্টও পাওয়া হত না বার্সার।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ৩-৩ সমতায় শেষ হয়েছে। বার্সার হয়ে ফেরান তোরেস ও লামিন ইয়ামাল একটি করে গোল করেন। অপর গোলটি আসে আত্মঘাতী থেকে। আর ব্রুজের হয়ে কার্লোস ফোর্বস জোড়া ও নিকোলো ট্রেসোল্ডি একটি গোল করেন।
ঘরের মাঠ ব্রেয়ডেল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় ব্রুজ। কার্লোস ফোর্বসের ক্রসে নিকোলো ট্রেসোল্ডি খুঁজে নেন জাল। ঝাঁপ দিলেও বলের নাগাল পাননি বার্সেলোনা গোলরক্ষক ভয়চেখ স্ট্যান্সনি। সমতায় ফিরতে অবশ্য খুব বেশিক্ষণ লাগেনি বার্সার। দুই মিনিট পরই ফেরান তোরেস ব্যবধান ১-১ করেন।
১৭ মিনিটে ফের এগিয়ে যায় ব্রুজ। প্রতি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে আড়াআড়ি শটে জাল খুঁজে নেন অরক্ষিত অবস্থানে থাকা ফোর্বস। ২৭তম মিনিটে একটুর জন্য গোল পাননি জুল কুন্দে। লামিনে ইয়ামালের কাছ থেকে বল পেয়ে গতিময় শট নেন ফরাসি ডিফেন্ডার। কিন্তু ক্রসবারে লেগে বল চলে যায় বাইরে।
ব্রুজের ডি বক্সের আশেপাশে প্রচুর খেলোয়াড় থাকায় শট নেওয়ার জায়গা পাচ্ছিলেন না বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। গোলরক্ষককে চমকে দিতে খেলোয়াড়দের পায়ের ফাঁক দিয়ে কাছের পোস্টে শট নেন মার্কাস র্যাশফোর্ড। তৎপর গোলরক্ষক ঝাঁপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন বল।
বার্সেলোনাকে সমতায় ফিরতে বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষাই করতে হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকেও গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ইয়ামালও। ৫২ মিনিটে তিনি শট নেন সোজাসুজি ব্রুগা গোলরক্ষক নর্ডিন জেকার্সের দিকে। তবে বার্সেলোনার ম্যাচে ফিরে আসার পরের দুটি গোলই এই ইয়ামালের সৌজন্যে পাওয়া।
৬১ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে বল পেয়ে দুই জনকে কাটিয়ে দানি ওলমোকে বাড়িয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন ইয়ামাল। ফিরতি পাস পেয়ে পায়ের কারিকুরিতে আরও দুই জনকে এড়িয়ে ঠাণ্ডা মাথায় জাল খুঁজে নেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। স্কোরলাইন হয় ২-২।
৬২তম মিনিটে ব্রুজকে ফের এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ নষ্ট করেন ফোর্বস। খুব কাছ থেকে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। পরের মিনিটেই অবশ্য আবার দলকে এগিয়ে নেন তিনি। হান্স ফানাকেনের রক্ষণচেরা পাস পেয়ে অনেকটা দৌড়ে ডি বক্সে ঢুকে বাম দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালে বল পাঠান পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
বার্সা এবার সমতায় ফেরে ৭৭ মিনিটে ক্রিস্টোস জলিসের আত্মঘাতী গোলে। যোগ করা সময়ে ভয়চেক সেজনির ভুলে বার্সার জালে বল জড়িয়েছিল। পোলিস গোলরক্ষক বল নিয়ে কাটাতে গেলে সেটা কেড়ে নিয়ে জালে পাঠায় ব্রুগ। রিভিউ দেখে রেফারি সেজনির ওপর ফাউল ডাকেন।
চার ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১১ নম্বরে রয়েছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ২৪ নম্বরে আছে ব্রুজ। চার ম্যাচে টানা জয়ে যথাক্রমে প্রথম তিনটি স্থানে আছে বায়ার্ন মিউনিখ, আর্সেনাল ও ইন্টার মিলান।
অন্য ম্যাচগুলোর মধ্যে ওসিমহেনের হ্যাটট্রিকে আয়াক্সকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে গ্যালাতসারে। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে নিউক্যাসলের জয় ২-০ গোলে। লেভারকুসেন বেনফিকার বিপক্ষে তুলে নিয়েছে ১-০ ব্যবধানের জয়, কাইরাতের বিপক্ষে ইন্টার মিলানের জয় ২-১ গোলে ও মার্শেই আটালান্টার কাছে হেরেছে ১-০ গোলে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: