[email protected] সোমবার, ২০শে জুলাই ২০২৬
৫ই শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড ১ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা আয় ফিফার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬ ০০:০৭ এএম

২০২৬ বিশ্বকাপ মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়েছে। আগেই ধারণা করা হয়েছিল, এবারের আসর থেকে রেকর্ড পরিমাণ আয় করবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে সংস্থাটি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) আয়ের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সংস্থাটির নির্ধারিত ১১ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

গত শনিবার (১৮ জুলাই) ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে এই বাড়তি আয়ের বিষয়ে অবহিত করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, হসপিটালিটি প্যাকেজ ও টিকিট বিক্রির অভাবনীয় সাফল্যই এই আয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশেষ করে সেকেন্ডারি টিকিট মার্কেটে প্রতিটি লেনদেনে ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয়ের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে কমিশন পেয়েছে ফিফা।

বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে টিকিটের চাহিদাও ছিল নজিরবিহীন। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালের ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ ফিফার টিকিটিং পোর্টালে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বিলাসবহুল ‘ট্রফি লাউঞ্জ’ প্যাকেজের মূল্য ছিল প্রতি ব্যক্তির জন্য ৩৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা

ধারণা করা হচ্ছে, এই অতিরিক্ত আয়ের একটি অংশ ভবিষ্যতে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নেও ব্যয় করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি ফিফা।

অর্থনৈতিক এই সাফল্য ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর অবস্থানও আরও শক্তিশালী করতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ নানা বিতর্কের জন্ম দিলেও আয় ও বাণিজ্যিক সফলতা সেই সমালোচনাকে অনেকটাই ছাপিয়ে গেছে।

বিশ্বকাপ চলাকালে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ ছিল, ফিফা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে। যদিও ফিফা দাবি করেছে, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি নিয়েছে।

এর মধ্যেই আগামী মার্চে পুনর্নির্বাচনের আগে ২০০টিরও বেশি সদস্য দেশের সমর্থনের আশ্বাস পেয়েছেন ইনফান্তিনো। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ থেকে আসা এই বিপুল অতিরিক্ত আয় অনেক সদস্য দেশকে ফিফার প্রতি আরও অনুকূল অবস্থানে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

একই সঙ্গে এই আর্থিক সাফল্য ভবিষ্যতে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে বিডের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ। এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিফার আলোচনা চলছে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর