[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অব্যবস্থাপনা মধ্যেই আগামীকাল শুরু হচ্ছে নারী ফুটবল লিগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:১২ পিএম

এক মৌসুম বিরতির পর আগামীকাল থেকে মাঠে ফিরছে নারী ফুটবল লিগ। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর লিগ শুরু হলেও উত্তেজনার চেয়ে বিভ্রান্তি, দুর্বল পরিকল্পনা আর চরম প্রস্তুতির অভাবই এখন লিগ শুরুর আগের পরিবেশকে গ্রাস করেছে।

লিগে মোট ১১টি দল অংশ নিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্লাবই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেনি। বিস্ময়করভাবে, মাত্র একটি ক্লাব সংবাদ সম্মেলন করে তাদের জার্সি উšে§াচন ও খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশ করেছে। বাকি ১০টি ক্লাব তাদের দল বা প্রস্তুতি নিয়ে কোনো তথ্যই দেয়নি, যা সমর্থক ও গণমাধ্যমকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখেছে।

আসন্ন সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির অজুহাতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়সূচিতে তাড়াহুড়ো করে এই লিগ আয়োজন করছে। তবে বাফুফে কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী এই সংক্ষিপ্ত সময়ের আয়োজন আসলেও কোনো কাজে আসবে কি না, তা নিয়ে গুরুতর সংশয় রয়েছে। গত ১৪ ডিসেম্বর দলবদলের জানালা খোলে এবং সময় বাড়ানোর পর তা ২৭ ডিসেম্বর শেষ হয়। কিন্তু সময়সীমা শেষ হওয়ার পরেও ক্লাবগুলো নিশ্চিত স্কোয়াড প্রকাশ করতে পারেনি বা কোনো গোছানো অনুশীলন ক্যাম্প শুরু করতে পারেনি। বিতর্কের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সম্প্রচার নিয়ে বাফুফের অস্পষ্টতা; কিক-অফের মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকলেও টিভি সম্প্রচারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। লিগ ফেরার ঘোষণা বারবার দেওয়া হলেও টুর্নামেন্ট বা ক্লাবগুলোর জন্য কোনো প্রচার-প্রচারণাই চোখে পড়েনি।

বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ স্বীকার করেছেন যে জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়দের সব দলের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হয়নি, যা সুষম বণ্টনের ব্যাপারে তাদের আগের দাবির বিপরীত। কিরণ বলেন, “রাজশাহী ১১ জন, ফরাশগঞ্জ ৬ জন, পুলিশ ২ জন, সিরাজগঞ্জ স্মৃতি ১ জন, নাসরিন ১ জন এবং আনসার ২ জন খেলোয়াড় নিয়েছে। বাকিরা নিজেদের মতো দল সাজিয়েছে।” তবে তার বিশ্বাস, এরপরও ম্যাচগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং লিগ তার উদ্দেশ্য পূরণ করবে।

যদিও মাঠের বাস্তব চিত্র বেশ করুণ এবং উদ্বেগের। অধিকাংশ ক্লাবেরই কোনো অনুশীলন বা প্রস্তুতির সময় মেলেনি। বাফুফে ক্যাম্পের বাইরের অনেক খেলোয়াড় তাদের সতীর্থদের সাথে খেলার আগের দিন প্রথমবারের মতো পরিচিত হয়েছেন। সোমবারের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ এফসি মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ আর্মি এসসির। এটি নারী লিগে পুলিশের অভিষেক। পুলিশ এফসিতে সানজিদা আক্তার ও সাগরিকার মতো জাতীয় দলের তারকারা থাকলেও দলটি রবিবারই প্রথম একসঙ্গে অনুশীলন করেছে। সাগরিকা এই চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে বলেন, “আমরা একে অপরের কাছে অনেকটাই অপরিচিত। আজই আমরা প্রথম একত্রিত হলাম, তবে সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে এবং ভালো খেলার চেষ্টা করবে।”

দলটির কোচ ওয়ালি ফয়সালও খেলার মাত্র একদিন আগে দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়ে বলেন, “খেলোয়াড়দের সাথে আজই আমার প্রথম দেখা। বোঝাপড়া তৈরি হতে দুই-তিন ম্যাচ লাগতে পারে, তবে আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ উন্নতি করব।” ২৯ ডিসেম্বর সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ পুলিশ এফসি ও বাংলাদেশ আর্মি এসসির ম্যাচ দিয়ে লিগ শুরু হবে। এরপর বিকাল পৌনে ৬টায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির মুখোমুখি হবে বিকেএসপি এফসি।

লিগের দ্বিতীয় দিন ঢাকা রেঞ্জার্স এফসির বিপক্ষে মাঠে নামবে তারকাবহুল ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। দলটিতে শামসুন্নাহার (সিনিয়র ও জুনিয়র), মনিকা চাকমা এবং মারিয়া মান্দার মতো খেলোয়াড়রা রয়েছেন। প্রতিভার ছড়াছড়ি থাকলেও ফরাশগঞ্জ এখনো পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন শুরু করতে পারেনি। ক্লাব ম্যানেজার বাবুরাম ঘোষ বলেন, “আমাদের প্রস্তুতির ঘাটতি আছে ঠিকই, তবে আমাদের স্কোয়াড ভারসাম্যপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি আমরা শিরোপার জন্য লড়তে পারব।”

লিগের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে। কিন্তু লিগ শুরু হলেও তা হচ্ছে অনিশ্চয়তার কালো মেঘের নিচেই, যা বাফুফের পরিকল্পনা, পেশাদারিত্ব এবং নারী ফুটবল ফেরানোর পেছনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর