ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ঢাকায় আসছে আগামীকাল, কি থাকছে দিনভর
‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলা’র অংশ হিসেবে আজ সকালে ঢাকায় পা রাখছে বিশ্বকাপ ট্রফি। সঙ্গে আসছেন ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি মিডফিল্ডার এবং আর্সেনালের ‘ইনভিজিবল’ স্কোয়াডের তারকা গিলবার্তো সিলভা।
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার অনেক আগেই তার উম্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে লাল সবুজের এই দেশে। চায়ের আড্ডায় উঠে। বাড়ির ছাদে ভিনদেশি পতাকা, আর আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল নিয়ে চিরন্তন তর্ক- এই হলো বাংলাদেশের বিশ্বকাপের রূপ। সেই আবেগের শহরেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর সোনালি ট্রফিটা এবার সশরীরে হাজির হচ্ছে আগামীকাল। ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলা’র অংশ হিসেবে আজ সকালে ঢাকায় পা রাখছে বিশ্বকাপ ট্রফি। সঙ্গে আসছেন ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি মিডফিল্ডার এবং আর্সেনালের ‘ইনভিজিবল’ স্কোয়াডের তারকা গিলবার্তো সিলভা।
বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা ও সূচি
সংক্ষিপ্ত এই সফরে ট্রফিটি বহনকারী চার্টার্ড বিমান বুধবার সকালে পাকিস্তান ও ভারত হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখানে ট্রফি গ্রহণ করবেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফ) বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তার সঙ্গে থাকবেন বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান।
বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রফিটি নিয়ে যাওয়া হবে হোটেল র্যাডিসন ব্লু-তে। তবে সাধারণ দর্শকদের জন্য এবার আক্ষেপ থাকছেই। গত ২০২২ সালের মতো আর্মি স্টেডিয়ামে কনসার্ট বা বড় কোনো প্রদর্শনী নেই। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আয়োজনটি রাখা হয়েছে অত্যন্ত ছিমছাম। কেবল কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইনের নির্দিষ্ট বিজয়ীরাই বিকেলে ট্রফি দেখার এবং ছবি তোলার সুযোগ পাবেন।
খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নিয়ে বাফুফের ‘অসহায়ত্ব’
জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং তরুণ ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিন অনুষ্ঠানে থাকতে পারেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। তবে ঘরোয়া লিগের খেলা চলায় নারী বা পুরুষ-অন্য ফুটবলারদের উপস্থিতি নিয়ে বেশ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বাফুফের অবস্থানও খুব একটা জোরালো মনে হয়নি। বাফুফের সহ-সভাপতি ও মার্কেটিং কমিটির চেয়ারম্যান ফাহাদ করিম বলেন, ‘খেলোয়াড়দের থাকার বিষয়টি আমরা (বাফুফে) নিশ্চিত নই। আমাদের বলা হয়েছে ট্রফি সকালে আসবে, তাবিথ ভাই রিসিভ করবেন। এরপর হয়তো বাফুফে এবং অতিথিদের জন্য আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার একটা সেশন থাকতে পারে। তারা আয়োজনটা খুবই সংক্ষিপ্ত করছে, এর বেশি কিছু নয়।’ নারী ফুটবলাররা থাকবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা হতাশার সুরেই ফাহাদ করিম যোগ করেন, ‘না ভাই, ওটাও নিশ্চিত না। খেলোয়াড়রা এখন যার যার ক্লাবে। তারা যদি ক্যাম্পে থাকত, আমরা সবাইকে নিয়ে যেতাম। এখন সবাই ক্লাবে ছড়িয়ে আছে। ক্লাব ছাড়বে কি না, সেটা একটা বিষয়। তবে শেষ মুহূর্তে হয়তো কোনো পরিবর্তন হতেও পারে।’
শহরের দেয়ালে বিশ্বকাপের রং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অনেক আগে থেকেই ঢাকার বাতাস জানান দিচ্ছিল ট্রফি আসছে। বিশেষ করে শহরের অলি-গলির দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতিগুলো যেন আগাম বার্তা। কোথাও মেসি-রোনালদো, কোথাও বা সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার দৃশ্য-শিল্পী তার তুলিতে ফুটিয়ে তুলেছেন ভক্তদের স্বপ্ন। এই গ্রাফিতিগুলো কোনো বিজ্ঞাপন নয়, বরং ফুটবলপাগল এক শহরের হৃদয়ের স্পন্দন।
ইতিহাসের সাক্ষী ঢাকা
সৌদি আরবের রিয়াদে ইতালিয়ান কিংবদন্তি আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরোর হাত ধরে শুরু হওয়া এবারের ফিফা বিশ^কাপ ট্রফিটি ৭৫টি দেশ ঘুরবে। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ৪৮ দলের বিশাল বিশ্বকাপের আবহ তৈরি করতেই এই বিশ্বভ্রমণ।
ঢাকায় মাত্র একদিনের এই ঝটিকা সফর শেষে বুধবার রাতেই ট্রফিটি উড়াল দেবে পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ হয়তো নেই, লাল-সবুজের জার্সি হয়তো এখনই সেখানে দেখা যাবে না, কিন্তু ট্রফিটা হাতের নাগালে পাওয়ার রোমাঞ্চটুকু কম কিসে! ফুটবলকে ভালোবেসে যে জাতি নির্ঘুম রাত কাটায়, তাদের জন্য ট্রফির এই এক ঝলকই অনেক বড় পাওয়া।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: