[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে এক পা বাংলাদেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:০২ পিএম

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে চার দল। প্রত্যেক দলের তিনটি করে ম্যাচ। সেই হিসাবে টানা দুই ম্যাচ জিতে ফাইনালের পথে এক পা বাড়িয়ে রাখল বাংলাদেশ। ভুটানের পর এবার অর্পিতা বিশ্বাসদের কাছে ধরাশায়ী ভারত। সোমবার নেপালের পোখরা রঙ্গশালায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারতকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লাল সবুজের মেয়েরা। একটি করে গোল করেছেন অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস ও আলপি আক্তার।

ম্যাচের শুরুতে ভারতের আক্রমণ সামলে দ্রুতই গুছিয়ে নেয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই অর্পিতা বিশ্বাসরা তুলে নেন জোড়া গোল। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই পেয়েছে গোলের সুযোগ। বাংলাদেশ নিজেদের জাল অক্ষত রেখে মাঠ ছেড়েছে। শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে দারুণ জয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে এগিয়ে গেল পেটার বাটলারের দল। লিগ ভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে একবার করে মাঠে নামবে। শেষে শীর্ষ পয়েন্টধারী দুই দল খেলবে ফাইনালে। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ বুধবার। নেপালের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ড্র করলেও ফাইনালে উঠবে লাল-সবুজের মেয়েরা।

রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে এদিন শুরু থেকে বাংলাদেশের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ায় ভারত। পঞ্চম মিনিটে গোলের ভালো সুযোগও পেয়েছিল দলটি। থ্রু বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন প্রীতিকা। তবে বাংলাদেশ গোলকিপার দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়েন বলের লাইনে, শেষ মুহূর্তে ভারতীয় ফরোয়ার্ড শট নিলেও তা লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। পরের মিনিটে বাংলাদেশের বক্সে উড়ন্ত বলে মাথা ছোঁয়াতে পারলে গোল পেতে পারতেন পার্ল ফার্নান্দেজ।

সময় গড়ানোর সঙ্গে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরে বাংলাদেশ। লেফট উইং দিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন মামনি চাকমা। ২৯ মিনিটে এই উইঙ্গারের দারুণ এক ফ্রি কিক থেকে লিড নেয় বাংলাদেশ। ডান পাসের কর্নারের কাছ থেকে সরাসরি গোলে শট নেন মামনি চাকমা। বল ঠিকানা খুঁজে নিচ্ছিলো জালের, লাফিয়ে ফিস্ট করে বল বের করার চেষ্টা করেন ভারত গোলকিপার মুন্নি। তাঁর হাতে লেগে বল মাটিতে পরার মুহূর্তে ফাইনাল টাচে জালে ঠেলে দেন অর্পিতা।

৩৭ মিনিটে ম্যাচে জোড়া পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। মাঠে নামেন বন্যা খাতুন ও শান্তি মার্ডি। দারুণ খেলতে থাকা মামনির সঙ্গে ক্রানুচিং মারমাকে তুলে দেন পিটার বাটলার।

আগের ম্যাচেও ভালো খেলেছেন মামনি। আজ ম্যাচের ৩৭ মিনিটে এই উইঙ্গারের বদলিই মনে করিয়ে দেয়া বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টে কেবল জয়ই চায় না, খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করতে চান ব্রিটিশ কোচ। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে যেমনটা বলেছিলেন তিনি।

৪০ মিনিটে আলপির গোলে লিড দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে ক্রস দেন তৃষ্ণা রানী। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে টপকে বলের লাইনে পা ছুঁইয়ে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো উৎযাপনের সুযোগ এনে দেন নারী লিগের এবারের মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩০ গোল করা আলপি।

৪২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের সুযোগ হারান আলপি। পুজার লং বল হেডে মাটিতে নামান আলপি, কিন্তু গোলমুখের সামনে থেকেও গোল করতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। এগিয়ে আসা গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে নেওয়া আলপির চিপ শট যায় গোলবারের উপর দিয়ে।

যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে প্রীতিকার শট লাফিয়ে গ্লাভসবন্দি করেন বাংলাদেশ গোলকিপার ইয়ারজান বেগম। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পর ৪৯ মিনিটে বক্সে ভারত অধিনায়ক জুলান নংমাইথেমের ভলি একটুর জন্য জাল খুঁজে পায়নি। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ভারতের মেয়েরা।

তবে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশ উঠে আক্রমণে। ৫৬ মিনিটে বক্সের সামনে ভারতের ডিফেন্ডার থান্ডা মনির কাছ থেকে বল কেড়ে নেন মুনকি। সামনে ভারতের চার-পাঁচজন খেলোয়াড়। তাঁদের মাথার উপর দিয়ে পোস্টে জোরালো শট নেন বাংলাদেশ মিডফিল্ডার। তবে লাফিয়ে কর্নারের বিনিময়ে মুনকিকে গোলবঞ্চিত রাখেন ভারতের গোলকিপার মুন্নি।

এরপর দুই দল চেষ্টা করেছে গোলের জন্য। তবে কোনো দল আর জালের দেখা পায়নি।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর