ম্যাচের টিকিটের আবেদন পড়েছে প্রায় অর্ধকোটি!
এ বছর ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের দাম প্রকাশ করেছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। এর ফলে নানা সমালোচনাও শুনতে হয়েছে।
তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, বিশ্বকাপ নিয়ে ‘অবিশ্বাস্য’ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তার মতে, ১০৪টি ম্যাচের সব টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছে!
ইনফান্তিনো সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রায় ৭০ লাখ টিকিটের জন্য চার সপ্তাহে ৫০৮ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ৮০ লাখ আবেদন জমা পড়েছে। তিনি জানিয়ে দেন, জানুয়ারির মূল বিক্রয় পর্বে ২০০টিরও বেশি দেশ থেকে আবেদন এসেছে। যদিও তার এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
এদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন, এত বিপুল আবেদন কি ‘বট’ বা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে হয়েছে? তবে ফিফা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, প্রতিটি আবেদনই ‘স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা হয়েছে।’
প্রথমবারের মতো ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির তথ্য দিলেও কোন ম্যাচে কত আবেদন পড়েছে, তা তিনি পরিষ্কারভাবে জানাননি। তার বক্তব্য ছিল, প্রতিটি ম্যাচের টিকিটই বিক্রি হয়ে গেছে। পরে ফিফার একটি সূত্র জানায়, ইনফান্তিনো আসলে বলতে চেয়েছিলেন, সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাবে বলে তাদের প্রত্যাশা। কিছু টিকিট শেষ মুহূর্তের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
ইনফান্তিনো আরও বলেন, এ রকম কিছু আগে কখনও দেখিনি, অবিশ্বাস্য। তিনি জানান, এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত কিছু টিকিট শেষ মুহূর্তে বিক্রির জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় তিন গুণ আবেদন পড়লে এটি আসলেই একটি বড় ঘটনা।
এদিকে, অনেক সমর্থক সংগঠন টিকিটের দামকে অতিরিক্ত বলে উল্লেখ করেছে এবং পুনঃবিক্রয় সাইটগুলোতে ইতোমধ্যে রেকর্ড দামে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এ সম্পর্কে ইনফান্তিনো বলেন, ‘এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ আয়োজনের কারণে হচ্ছে। সবাই বিশেষ কিছুতে অংশ নিতে চায়। টিকিটের দাম নির্ধারিত, তবে বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি রয়েছে, যার কারণে দাম কম বা বাড়তে পারে। আপনি অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম বা সেকেন্ডারি মার্কেটে টিকিট পুনঃবিক্রি করতে পারেন, যার ফলে দাম বাড়তে পারে।’
ইনফান্তিনো আরও জানান, প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয় হবে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি। তিনি বলেন, এই অর্থ ফিফার ২১১টি সদস্য দেশে ফুটবল উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে।
বিশ্বকাপের আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রভাব ফেলবে, যার মধ্যে পর্যটন, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, নিরাপত্তা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাত থাকবে। ইনফান্তিনোর মতে, প্রায় ৭০ লাখ দর্শকের পাশাপাশি বিশ্বকাপ ২ থেকে ৩ কোটি পর্যটক আকর্ষণ করবে এবং প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: