[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মাঝমাঠ জমাট রাখার পণ মনিকাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬ ১৮:০৩ পিএম

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন এবং তিনবারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া। এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াইয়ে রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা। মারিয়া-স্বপ্নাদের নিয়ে মাঝমাঠকে জমাট রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য।

সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে ছোট ছোট ছয়টি পোস্ট সাজিয়ে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে শুরু হয় শুটিং অনুশীলন। অনুশীলনের এক পর্যায়ে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী মনিকা চাকমাকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন। পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি মনিকাও। কয়েকজনকে কাটিয়ে আফঈদা খন্দকারকে বোকা বানিয়ে দারুণ এক গোল করেন তিনি। অনুশীলনের পর এই দুই সাফজয়ী মিডফিল্ডারই জানান, মূল লড়াইয়ে মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করাই হবে তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।

কমব্যাংক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নারী এশিয়ান কাপের ‘বি’ গ্রুপে যাত্রা শুরু করবে বাংলাদেশ। এই প্রতিযোগিতায় চীন রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন। অন্যদিকে, এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে এই প্রথম অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। তাই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখতে চান না ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার। সকাল নয়টায় দল নিয়ে জুবিলি স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেড় ঘণ্টার অনুশীলন করান তিনি। প্রস্তুতি শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন মনিকা।

দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনো ত্রুটি রাখতে চান না তারা। মনিকার ভাষ্য, ‘আমরা ওদের সঙ্গে খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যেহেতু এমন দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছি, সেটাকে কাজে লাগাতে চাই। মিডফিল্ডে আমাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট দায়িত্ব আছে। ম্যাচে নেমে সেই দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করাই হবে মূল লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোচের পরিকল্পনার পাশাপাশি আমাদের নিজেদের মধ্যেও নিয়মিত যোগাযোগ থাকে। যেমন মারিয়া আক্রমণে উঠে গেলে আমাকে মাঝমাঠ ধরে রাখতে হয়। এই সমন্বয়গুলো আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করি। যেহেতু ওরা শক্তিশালী দল, তাই সব দিক থেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। শুধু মিডফিল্ড নয়, স্ট্রাইকার, ডিফেন্ডার ও গোলকিপার-সব বিভাগকেই সমানভাবে শক্ত থাকতে হবে।’
মনিকাদের প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরা। বাংলাদেশের গ্রুপের আরেক দল উত্তর কোরিয়া তিনবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়েও গ্রুপের দলগুলো বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তবু পরিস্থিতি বুঝে খেলতে চান মনিকা। তিনি বলেন, ‘ওরা অনেক ভালো দল এবং আগে কখনও তাদের বিপক্ষে খেলিনি। তাই মাঠে নেমে পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হবে। আমরা অনেক দিন ধরে এখানে অনুশীলন করছি। আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। প্রতিদিনই উন্নতি করছি। সব মিলিয়ে দল ভালো অবস্থায় আছে।’

শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে সামনে রেখে নিয়মিত টিম মিটিং ও ভিডিও বিশ্লেষণ চলছে বলেও জানান মনিকা। তার ভাষায়, ‘চীন ও উত্তর কোরিয়া এশিয়ার সেরা দলগুলোর মধ্যে। তাই প্রতিদিন আমাদের মিটিং হয়, ভিডিও দেখানো হয়। তারা কোন পজিশনে খেলে, আমাদের কীভাবে দৌড়াতে হবে, কোথায় ফাঁক তৈরি হয়-এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। মাঠেও আমরা সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।’

তবে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নিয়েই শুধু ভাবনায় ডুবে থাকতে চান না মনিকা। নিজেদের সামর্থ্য দেখানোই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘গোলকিপার থেকে শুরু করে স্ট্রাইকার-সবাইকে একসঙ্গে শক্ত থাকতে হবে। আমরা প্রতিটি বিভাগ নিয়ে কাজ করছি। ফলাফল যাই হোক, আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’
বড় মঞ্চে প্রথমবারের মতো নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী দল। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই সহজ হবে না, সেটি জানেন মনিকারা। তবু আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না তারা। মাঝমাঠ জমাট রেখে, শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেই নিজেদের স্বপ্নের যাত্রা শুরু করতে চান লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর