বিশ্বকাপের মাঠের লড়াইয়ের আগে বাজারমূল্যের শীর্ষে কারা?
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আগামী জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসবে ৪৮ দলের মেগা আসর।
'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' খ্যাত এই বৈশ্বিক আসরে কোন দল ট্রফি জিতবে তা নিয়েও বাজি ধরা শুরু হয়ে গেছে ফুটবল বিশ্বে। তবে মাঠের কৌশলের পাশাপাশি এখন আলোচনা চলছে দলগুলোর আর্থিক মূল্যমান নিয়ে।
বর্তমান ফুটবল বিশ্বের বাজারমূল্য নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক বহুজাতিক ক্রীড়া চ্যানেল বেইন স্পোর্টস। তাদের প্রতিবেদন মতে, সব দলকে ছাড়িয়ে এক্ষেত্রে সিংহাসন দখলে রেখেছে হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামদের ইংল্যান্ড।
১. শীর্ষে ইংল্যান্ড
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামী স্কোয়াড বা দল হল ইংল্যান্ড। তাদের পুরো দলের সম্মিলিত বাজারমূল্য ১.৫ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। এই ‘গোল্ডেন জেনারেশন’ বা সোনালী প্রজন্মের নেতৃত্বে আছেন জুড বেলিংহাম (যার মূল্য ১৭০-২০০ মিলিয়ন ইউরো), ফিল ফোডেন এবং বুকায়ো সাকা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক আধিপত্য এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য তাদের এই আকাশচুম্বী মূল্যের প্রধান কারণ। যদিও বেলিংহাম ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেন।
২. ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে ফ্রান্স ও স্পেন
ইংল্যান্ডের ঠিক পরেই অবস্থান করছে গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো মেগাস্টারদের উপস্থিতিতে ফরাসি স্কোয়াডের মূল্য প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ইউরো। নিয়মিত বিশ্বমানের প্রতিভা তৈরির কারখানায় পরিণত হওয়া এই দলটি টেকনিক্যাল ও ফিজিক্যাল—উভয় দিক থেকেই অনন্য।
অন্যদিকে, তরুণ তুর্কিদের হাত ধরে দ্রুত ওপরে উঠে এসেছে স্পেন। লামিনে ইয়ামাল (যার বাজারমূল্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরো) এবং নিকো উইলিয়ামসের মতো তরুণদের জাদুতে স্পেনের বর্তমান বাজারমূল্য ১.১ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। ইউরোপীয় দলগুলোর মধ্যে তারা এখন অন্যতম ফেভারিট।
৩. লাতিন আমেরিকার শক্তি
ইউরোপের বাইরে বাজারমূল্যে এখনো দাপট দেখাচ্ছে রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকাদের ওপর ভর করে সেলেসাওদের বাজারমূল্য এখন ১ বিলিয়ন ইউরোর কাছাকাছি।
তবে মজার বিষয় হল, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকলেও বাজারমূল্যে বেশ পিছিয়ে আছে (প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ইউরো)। এর প্রধান কারণ দলের মূল খেলোয়াড়দের গড় বয়স বেশি হওয়া। তবে আলবিসেলেস্তেরা বারবার প্রমাণ করেছে যে, কোটি কোটি ইউরো দিয়ে প্রতিভা কেনা গেলেও মাঠের সংহতি আর জেদই শেষ পর্যন্ত ট্রফি এনে দেয়।
বাজারমূল্য বনাম মাঠের পারফরম্যান্স
পর্তুগাল বা জার্মানির মতো দলগুলোও এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। তবে ফুটবলের ইতিহাস বলে, সবচেয়ে দামী দল হলেই যে চ্যাম্পিয়ন হওয়া যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ‘বাজার মূল্য’ কেবল বর্তমান সামর্থ্য ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে নির্দেশ করে। শেষ পর্যন্ত মাঠের কৌশল, দলীয় ঐক্য আর লড়াকু মানসিকতাই নির্ধারণ করবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আসল রাজা কে হবে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: