[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ক্যাম্প থেকে পালিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাইলেন ইরানের ৫ নারী ফুটবলার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬ ২৩:০৩ পিএম

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ চলাকালে ইরানের নারী ফুটবল দলের ৫ সদস্য দলীয় ক্যাম্প ছেড়ে দেশটিতে আশ্রয় চেয়েছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইরানে ফিরলে তাদের ‘গুরুতর পরিণতির’ মুখে পড়তে হতে পারে। খবর স্কাই নিউজের।

ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভীর দপ্তর জানিয়েছে, খেলোয়াড়রা বর্তমানে একটি নিরাপদ স্থানে রয়েছেন। আশ্রয় চাওয়া খেলোয়াড়রা হলেন ফাতেমাহ পাসানদিদেহ, জাহরা ঘানবারি, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামাজানজাদেহ এবং মোনা হামৌদি।

এর আগে, এশিয়ান কাপ থেকে ছিটকে পড়ার পর দলটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

জাতীয় সংগীত বিতর্ক
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীতের সময় নীরব থাকার কারণে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ে খেলোয়াড়দের তীব্র সমালোচনা করা হয়। এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক মোহাম্মাদ রেজা শাহবাজি বলেন, এটি ছিল ‘চরম অসম্মানজনক’ আচরণ।

অনেকে মনে করেন, জাতীয় সংগীতের সময় নীরব থাকা ছিল সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। আবার কেউ কেউ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর শোক প্রকাশের অংশ হিসেবেই তারা নীরব ছিলেন। তবে এ বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচে নীরব থাকার পর অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচগুলোর আগে খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীত গেয়েছেন এবং সালাম জানিয়েছেন। এতে অনেকের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, তাদের এমনটি করতে বাধ্য করা হতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো জানিয়েছে, দলটির নিরাপত্তা নিয়ে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ এবং এখন পর্যন্ত খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় তাদের খেলতে দেখা অনেক অস্ট্রেলিয়ানের জন্য আবেগঘন মুহূর্ত ছিল। আমরা জানি, ইরানে বহু নারী কঠোর দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন।’

 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর