[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এশিয়ান কাপ শেষ করা নারী ফুটবলারদের উদ্দেশে ইরানের বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬ ১০:০৩ এএম

অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ অভিযান শেষে দেশে ফিরলে ইরানের নারী ফুটবল দলকে দুহাত ভরে স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, তারা যেন দেশে ফিরে আসতে উদ্বিগ্ন না হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইরানের নারী ফুটবল দলকে বলছি, চিন্তা করো না, ইরান তোমাদের দুহাত ভরে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।’

ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়ও জানিয়েছে, দলের বাকি সদস্যদের ‘শান্তি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে’ দেশে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, খেলোয়াড়দের পরিবারগুলোর উদ্বেগ দূর করতেও পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে, হোটেল থেকে পালানো ইরানের ৫ নারী ফুটবলারকে অস্ট্রেলিয়া ভিসা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা। কারণ ৩ মার্চ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় ইরানের খেলোয়াড়রা নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

পরে অবশ্য বাকি দুই ম্যাচে তারা সংগীত গেয়েছেন এবং স্যালুটও করেছেন। তবু দেশে ফেরার পর শাস্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, ওই পাঁচ খেলোয়াড়কে বলা হয়েছে তারা চাইলে অস্ট্রেলিয়াতেই থাকতে পারেন এবং সেখানে তারা নিরাপদ। তিনি দলের অন্য সদস্যদেরও একই প্রস্তাব দিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আশ্রয়প্রার্থী খেলোয়াড়রা হলেন অধিনায়ক জাহরা ঘানবারি, মিডফিল্ডার ফাতেমাহ পাসানদিদেহ, জাহরা সারবালি আলিশাহ, ও মোনা হামৌদি এবং আতেফেহ রামেজানিজাদেহ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানেজের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই ট্রাম্পের বক্তব্য খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘উদ্ধার’ করার দাবি প্রশ্নবিদ্ধ, বিশেষ করে মিনাব শহরের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলার ঘটনার পর।

ইরানের অভিযোগ, ওই হামলায় ১৬৫ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহৃত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করেছিল।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া মানবিক ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পাঁচ খেলোয়াড়কে পুলিশের নিরাপত্তায় একটি গোপন স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

ইরান ফুটবল ফেডারেশনের নারী বিষয়ক সহসভাপতি ফারিদেহ সোজাই জানান, পুলিশি নিরাপত্তায় দলটি হোটেলের পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়েছে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর