[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইরান নারী ফুটবল দলের আরও ২ সদস্যকে আশ্রয় দিলো অস্ট্রেলিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬ ১১:০৩ এএম

এএফসি নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখেছিল ইরানের জাতীয় নারী ফুটবল দল। টানা তিন ম্যাচ হেরে অবশ্য টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে তারা। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে চলমান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জেরে নিরাপত্তা শঙ্কার মুখে পড়েছে তাদের ফুটবলাররা।

এমন পরিস্থিতিতে ইরান জাতীয় দলের ৫ নারী ফুটবলারকে মানবিক আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। এর একদিন পর দেশটি জানিয়েছে, ইরান নারী ফুটবল দলের আরও একজন খেলোয়াড় ও এক সহায়ক স্টাফকে মানবিক আশ্রয় দেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক।

বার্ক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগের রাতে যে প্রস্তাব পাঁচ খেলোয়াড়কে দিয়েছিলাম, তাদেরও একই প্রস্তাব দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি অস্ট্রেলিয়ার মানবিক ভিসা নিতে চান, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী ভিসা পাওয়ার পথ তৈরি করবে, তাহলে সেটি দ্রুত কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত ছিল।’

অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তারা সিডনি বিমানবন্দরে ইরান নারী ফুটবল দলের বেশির ভাগ সদস্যের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে ইরান নারী দলের সদস্যদের সামনে সম্ভাব্য বিকল্পগুলো তুলে ধরেন তারা। দলের কয়েকজন সদস্য পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আলোচনা করে নিজেদের বিকল্প নিয়ে ভাবেন, তবে তারা অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

ইরানের প্রধান কোচ মারজিয়া জাফরি বলেছেন, খেলোয়াড়রা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইরানে ফিরতে চায়। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফও। তিনি ফুটবলারদের নিজ দেশেই নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া ট্রাম্প ফুটবলেও ‘সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ করছেন বলে দাবি ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের।

ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘ইরান তার সন্তানদের দু’হাত প্রসারিত করে স্বাগত জানাচ্ছে এবং তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছে সরকার। ইরানি জাতির পারিবারিক বিষয়ে কারও হস্তক্ষেপের অধিকার নেই এবং একইসঙ্গে কেউ মায়ের চেয়ে মাসির মতো বেশি দরদ দেখানোরও সুযোগ নেই।’ এ ছাড়া ইরানের ফুটবল ফেডারেশন আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে (ফিফা) ‘ট্রাম্পের ফুটবলেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের’ বিষয়টি পর্যালোচনার আহবান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে অস্ট্রেলিয়াকে আহবান জানিয়েছিলেন, যাতে তারা ইরানের এই নারী ফুটবল খেলোয়াড়দের আশ্রয় দেয়। তবে বাকি ইরানি নারী ফুটবল খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন আছে বৈশ্বিক সংগঠন ফিফপ্রো।

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ইরানের ফুটবলারেরা। এরপর ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন আইআরআইবি দলটিকে ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিলে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। তবে হুমকি বা বোধোদয়ের কারণে, পরের ম্যাচে তারা ঠিকই জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোয় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ঠিক সে সময় নারী এশিয়ান কাপে অভিযাত্রা শুরু করে ইরান। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সব কটি হেরে গত রোববার টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় ইরান।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত একদল ইরানি দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। গোল্ড কোস্টে হোটেল থেকে ইরান নারী ফুটবল দল বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা খেলোয়াড়দের বহনকারী বাস ঘিরে ধরেন।

টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের খেলোয়াড়েরা সিডনি বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক টার্মিনালে যাওয়ার সময় অনেক মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।

এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় মঙ্গলবার নারী ফুটবল দলের বাকি সদস্যদের ‘শান্তি ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে’ দেশে ফেরার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর