[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত বদলে অস্ট্রেলিয়া ছাড়লেন এক ইরানি ফুটবলার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬ ২০:০৩ পিএম

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত নারী এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়ার পর ইরান নারী ফুটবল দলের আরও দুই সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে তাদের একজন পরে সিদ্ধান্ত বদলে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক।

বার্ক বুধবার সংসদে জানান, ২১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মোহাদ্দেসেহ জোলফি এবং দলের সাপোর্ট স্টাফ জাহরা সোলতান মোশকেহকার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের দেওয়া সহায়তার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। এর এক দিন আগে ইরান দলের পাঁচ খেলোয়াড়কে মানবিক ভিসা দেওয়া হয়েছিল।

তবে দুইজনের একজন পরে মত পরিবর্তন করেন। বার্ক বলেন, ‘যে দুইজন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাদের একজন পরে কিছু সতীর্থের সঙ্গে কথা বলার পর সিদ্ধান্ত বদলেছে। অস্ট্রেলিয়ায় মানুষ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অধিকার রাখে এবং আমরা সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করি।’

তিনি জানান, ওই খেলোয়াড় ইরানের দূতাবাসে যোগাযোগ করার পর অন্যদের নিরাপত্তার কারণে বাকিদের একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের সহায়তায় জোলফি ও মোশকেহকারকে দলের বাকি সদস্যদের কাছ থেকে আলাদা করে সিডনিগামী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে তোলা হয়।

অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে সিডনি বিমানবন্দরে ইরানি দলের বাকি সদস্যদেরও তাদের ‘বিকল্প পথ’ সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। তবে যারা বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন, সবাই শেষ পর্যন্ত ইরানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে বার্ক বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করেছি যেন কাউকে তাড়াহুড়া বা চাপের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না হয়।

প্রত্যেকের মর্যাদা ও স্বাধীন সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, কিছু খেলোয়াড় তাদের পরিবারের সদস্যদের ইরান থেকে বের করে আনার সম্ভাবনা নিয়েও জানতে চেয়েছিলেন। বার্ক বলেন, ‘যদি কেউ স্থায়ী বাসিন্দা হন, তাহলে পরিবারের সদস্যদের স্পনসর করার সুযোগ থাকে। তবে সবকিছুই তখনই সম্ভব, যদি তারা প্রথমে ইরান থেকে বের হতে পারেন।’

কিছু খেলোয়াড় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

বর্তমানে ইরান দল কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে, সেখান থেকে তারা দেশে ফিরবে।
কুয়ালালামপুরভিত্তিক এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) দলটির আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, দলটি বর্তমানে মালয়েশিয়ার রাজধানীর একটি হোটেলে অবস্থান করছে এবং তাদের পরবর্তী যাত্রার ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

মালয়েশিয়ায় ইরানের দূতাবাস দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামাকে জানিয়েছে, খেলোয়াড়রা ভালো আছেন এবং তারা দেশে ফিরতে চান।

এশিয়ান কাপে অংশ নিতে গিয়ে দলটি বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেয়। এতে খেলোয়াড়দের দেশে ফেরার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এই টুর্নামেন্ট চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালায়, যাতে নিহত হন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। একই সময় ইরানের এশিয়ান কাপ অভিযান শুরু হয়েছিল। দলটি শেষ পর্যন্ত রোববার টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত একদল ইরানি প্রবাসী গোল্ড কোস্টে দলটির হোটেলের সামনে বিক্ষোভ করেন। খেলোয়াড়রা যখন বিমানবন্দরের উদ্দেশে বাসে করে হোটেল ছাড়েন, তখন বিক্ষোভকারীরা বাসটিকে ঘিরে ধরেন। সিডনি বিমানবন্দরেও তাদের উপস্থিতি দেখা যায়।

এদিকে ইরানের জেনারেল প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, দলের বাকি সদস্যদের ‘শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে’দেশে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুরুষ ফুটবল দলের আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অংশ নেওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার কোনো পরিবেশ নেই।’

তবে এর কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে আলোচনায় জানান, ইরান দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।

ইনফান্তিনো ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয়েছে। আলোচনায় তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে ইরান দল যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলতে পারবে।’

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান ‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে রয়েছে। তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা, একটি সিয়াটলে এবং দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পরই ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ খুবই কম।’

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর