[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভালভার্দে একবিংশ শতাব্দীর ‘জুয়ানিতো’: রিয়াল কোচ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬ ২২:০৩ পিএম

ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে মাঠে নামার আগে হয়তো কেউই কল্পনাও করেনি এতটা দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নেবে রিয়াল মাদ্রিদ। কারণ ইনজুরি জর্জরিত দলটিকে লড়াই করতে হতো কিলিয়ান এমবাপ্পে, রদ্রিগো গোয়েস ও জুড বেলিংহ্যামের মতো তারকারা অনুপস্থিতিতে। কিন্তু ভেদেরিকো ভালভার্দে একাই সব শঙ্কা দূর করে দিলেন। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকে আলোকিত করে প্রথমার্ধেই তুলে নিলেন ‍দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক।

তার সুবাধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলো রিয়াল। ম্যাচশেষে তাই সতীর্থ থেকে কোচ সবাই তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কোচ আলভালো অরবেলোয়া তো তাকে ২১ বিংশ শতাব্দীর জুয়ানিতোর খেতাব দিয়েছেন।

বার্নাব্যুতে মাত্র ২২ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে ক্লাবের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ডও গড়েছেন ভালভার্দে। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ক্লাবটির ইতিহাসে চ্যাম্পিয়নস লিগে হ্যাটট্রিক করা প্রথম মিডফিল্ডার হয়ে গেছেন উরুগুয়ের এ মিডফিল্ডার। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতাটিতে নিজের ক্যারিয়ারের মোট গোলসংখ্যাও দ্বিগুণ করেছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে ভালভার্দেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভাসিয়েন সতীর্থ ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড বলেন, ‘আমার মনে হয় ভালভার্দে বিশ্বের সবচেয়ে অবমূল্যায়িত ফুটবলারদের একজন। অনেক বছর ধরেই সে এমন খেলছে। তার খেলায় কোনো দুর্বলতা নেই। সে সবকিছুই করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তার এনার্জি এবং দলের জন্য অবদান অসাধারণ। সে কখনো অভিযোগ করে না, প্রতিটি ম্যাচে নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যায়। আমার মতে, সে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদের শীর্ষ সারিতেই আছে।’

রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভালো অরবেলোয়াও ভালভার্দের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ। তিনি বলেন, ‘তাকে যেখানেই খেলানো হোক না কেন, সে পারফর্ম করবে। আমার কাছে সে একবিংশ শতাব্দীর জুয়ানিতো। মাদ্রিদিস্তাদের জন্য সে এক আদর্শ উদাহরণ।’

জুয়ানিতো ছিলেন দুর্দান্ত ড্রিবলিং, লড়াকু মানসিকতা ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার জন্য বিখ্যাত স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। রিয়ালের হয়ে তিনি বহু ঐতিহাসিক কামব্যাকের নায়ক, বিশেষ করে সেল্টিক এফসির বিপক্ষে ১৯৮০ ইউরোপিয়ান কাপ ম্যাচে গোল করে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেন। তার জেদ, লড়াই আর নেতৃত্বই মাদ্রিদের জয়ের মানসিকতার প্রতীক হয়ে ওঠে। ১৯৯২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তার স্মরণে বার্নাব্যুতে প্রতি ম্যাচের সপ্তম মিনিটে সমর্থকেরা ‘ইয়া ইয়া জুয়ানিতো মারাভিয়া’ স্লোগান দিতো।

এদিকে আরবেলোয়া জানান, ম্যাচ পরিকল্পনায় ভালভার্দেকে আরও আক্রমণাত্মকভাবে সিটির রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সে ট্রেন্টকে রক্ষণে সহায়তা করেছে, আবার তিনটি গোলও করেছে। এটা সত্যিই স্মরণীয় এক ম্যাচ।’

সিটির কোচ পেপ গার্দিওলাও ভালভার্দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার যোগ্য ছিলেন উরুগুয়ের এই তারকা।

ম্যাচ শেষে ভালভার্দে নিজেও নিজের অনুভূতি লুকাননি। তিনি বলেন, ‘এমন রাতের স্বপ্নই তো দেখেন একজন ফুটবলার। আজকের ম্যাচটা আমি সত্যিই উপভোগ করেছি। অনেক দিন পর এমন আনন্দ নিয়ে খেললাম।’

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর