প্রথমবারের মতো ইউরোপে খেলবে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ সান ম্যারিনো
আগামী ১১ জুন মাঠে গড়াতে যাচ্ছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। তার আগে রয়েছে একটি আন্তর্জাতিক উইন্ডো। এ সময়ে বাংলাদেশের ফুটবল দল প্রথমবারের মতো ইউরোপ সফরে যাচ্ছে ছোট্ট দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলতে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে, আগামী ৫ জুন ইউরোপের ছোট দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় দল। ম্যাচের ভেন্যু ও সময় এখনও নির্ধারিত হয়নি, পরবর্তীতে জানানো হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।
এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের ঠিক এক সপ্তাহ আগে, যখন আন্তর্জাতিক সূচির অংশ হিসেবে একটি ফিফা উইন্ডো থাকে। সাধারণত এই সময়টিতে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে থাকে এবং বাংলাদেশও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে।
তবে এই সিদ্ধান্তটি এসেছে বেশ দ্রুত এবং কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে। মাত্র তিন দিন আগে বাফুফে ভবনে জাতীয় দল কমিটির সভা শেষে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও কমিটির সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছিলেন, জুন উইন্ডোতে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড কিংবা মালদ্বীপের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ বা ছোট টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ইউরোপের দল সান মারিনোর সঙ্গে ম্যাচ চূড়ান্ত হওয়ায় বাফুফের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সান মারিনো ইউরোপের একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র, যা ইতালির কাছাকাছি অবস্থিত। ফুটবলের পরাশক্তি ইউরোপীয় অঞ্চলের অংশ হলেও দলটির অবস্থান একেবারেই নিচের দিকে। বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সান মারিনোর অবস্থান ২১১তম। যা সক্রিয় ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম। অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে ৩০ ধাপ নিচে থাকা একটি দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে ইউরোপ সফরের আর্থিক ব্যয় এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে র্যাঙ্কিংয়ে কতটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্ন র্যাঙ্কিংয়ের দলের বিপক্ষে জয় পেলেও পয়েন্ট অর্জন সীমিত হয়, আর কোনো অঘটন ঘটলে তার নেতিবাচক প্রভাব বড় হতে পারে।
তবে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জাতীয় দলের ইউরোপে খেলার সুযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার দৃষ্টিতে, ইউরোপীয় পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা খেলোয়াড়দের মানসিক ও ট্যাকটিক্যাল উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।
ক্রিকেট খেলার সময় ফুটবল খেলতে না দেয়ায় তুমুল সংঘর্ষ, আহত ৩০
এদিকে বাফুফে তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ম্যাচটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, কারণ এটি নাকি ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। তবে তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের লন্ডনে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সে হিসেবে এটি পুরোপুরি প্রথম ইউরোপ সফর নয়, যদিও দীর্ঘ সময় পর আবার ইউরোপে খেলতে যাচ্ছে দলটি।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের আগে এই প্রীতি ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন নতুন অভিজ্ঞতার দুয়ার খুলছে, অন্যদিকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে এর কার্যকারিতা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: