৯ গোলের থ্রিলারে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে প্যারিস সেন্ট জার্মেইন ও বায়ার্ন মিউনিখ যে নাটকীয়তার জন্ম দিল, তা শুধু একটি ম্যাচ নয়- আধুনিক ফুটবলের এক স্মরণীয় শিল্পরূপ হয়ে থাকবে বহুদিন।
পিএসজির ঘরের মাঠ প্রাক দ্য প্রাসের আলো ঝলমলে রাতে শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল আগুনঝরা গতি। গ্যালারিতে পিএসজি সমর্থকদের বিশাল টিফো যেন আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিল লড়াইয়ের তীব্রতার। মাঠেও তার প্রতিফলন দেখা গেল প্রথম মিনিট থেকেই।
ম্যাচের শুরুটা ছিল বায়ার্নের দখলে। আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারাবাহিকতায় ১৭ মিনিটে এগিয়ে যায় জার্মান জায়ান্টরা। পেনাল্টি থেকে গোল করেন হ্যারি কেইন, যিনি ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন। চলতি আসরে এটি ছিল তার ১৩তম গোল, যা তাকে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের কাতারে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
তবে ম্যাচের রঙ বদলাতে বেশি সময় নেয়নি পিএসজি। ২৪ মিনিটে অসাধারণ একক নৈপুণ্যে সমতা ফেরান খিচা কাভারাস্কেইয়া। বায়ার্নের ডিফেন্সকে ছিন্নভিন্ন করে তার বাঁকানো শট প্যারিসের দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়। এরপর ৩১ মিনিটে জোয়াও নেভেসের হেডে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
প্রথমার্ধেই আবারও সমতা ফেরায় বায়ার্ন। ৪০ মিনিটে মাইকেল ওলিসে দারুণ দক্ষতায় গোল করে ম্যাচকে ২-২ করেন। তবে বিরতির আগে শেষ হাসি হাসে পিএসজি। ইনজুরি টাইমে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ওসমান দেম্বেলে, ফলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় লুইস এনরিকের দল।
দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি যেন আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। ৫৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কাভারাস্কেলিয়া, আর তার ঠিক দুই মিনিট পরই ডেম্বেলের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-২। এই সময়ে বায়ার্নকে কিছুটা দিশেহারা মনে হচ্ছিল, যেন ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে গেছে।
কিন্তু ইউরোপিয়ান ফুটবলে বায়ার্নের লড়াকু মানসিকতা নতুন কিছু নয়। ৬৫ মিনিটে ডায়েট উপমেকানোর এর হেডে গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় তারা। এরপর ৬৮ মিনিটে লুইস দিয়াজ ব্যবধান কমিয়ে ৫-৪ করেন। শেষ মুহূর্তগুলোতে ম্যাচের উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়, সমতা ফেরানোর খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল বায়ার্ন।
তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি। রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে দু’দলকেই অভিবাদন জানান দর্শকেরা। কারণ এই ম্যাচে জয়-পরাজয়ের সীমা ছাড়িয়ে জয়ী হয়েছে ফুটবল নিজেই।
চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে ৯ গোলের এমন বিস্ফোরণ বিরল। এই ৫-৪ ব্যবধানের জয় লুইস এনরিকের পিএসজিকে ফাইনালের পথে সামান্য এগিয়ে রাখলেও, সবকিছুর নিষ্পত্তি হবে দ্বিতীয় লেগে, যা অনুষ্ঠিত হবে মিউনিখে।
এই ম্যাচ শুধু একটি ফলাফল নয় এটি এক রোমাঞ্চকর কাব্য, যা বহু বছর ধরে ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে ফিরবে।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: