২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই ফুটবলার!
ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই ভারতের কেরালা রাজ্যের রূপ পুরো বদলে যায়। চারদিকের রাস্তাঘাট ছেয়ে যায় আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড কিংবা ফ্রান্সের পতাকায়।
বয়স বা লিঙ্গভেদ ভুলে চা দোকান থেকে শুরু করে অফিস আদালত কিংবা পারিবারিক আড্ডা; সবখানেই তখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ফুটবল। এই উন্মাদনার মাঝেই এবার মালয়ালিদের (কেরালার অধিবাসী) জন্য এসেছে এক অবিস্মরণীয় এবং ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
৪৮ দলের এই বর্ধিত বিশ্বমঞ্চে ভারতের খেলার স্বপ্ন এখনো অনেক দূরে থাকলেও, কেরালার ফুটবলপ্রেমীদের আনন্দ এখন আকাশছোঁয়া। কারণ, কেরালার শিকড় জড়ানো এক তরুণ কাতারের হয়ে এবং পার্শ্ববর্তী তামিলনাড়ুর বংশোদ্ভূত আরেক ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে পা রাখতে যাচ্ছেন ফুটবলের এই সর্বোচ্চ মঞ্চে।
আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য যখন কাতারের প্রধান কোচ হুলেন লোপেতেগি তার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেন, তখন কেরালাবাসীর চোখ আটকে যায় একটি নামে- তাহসিন মোহাম্মদ জামশিদ।
১৯ বছর বয়সী এই তরুণের পারিবারিক শিকড় কেরালার কান্নুর জেলায়। বিশ্বকাপের মাঠে নামার সুযোগ পেলে তাহসিন হবেন কেরালার শিকড় থাকা প্রথম ফুটবলার এবং একই সঙ্গে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অংশ নেওয়া প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়।
কেরালা থেকে ১৯৯৬ সালে কাতারে পাড়ি জমান তাহসিনের বাবা-মা। সেই সুবাদে দোহায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাহসিন ছোটবেলা থেকেই কাতারের ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যান। কাতারের নাগরিকত্ব থাকা এই তরুণ ফুটবলার গড়ে উঠেছেন দেশটির বিখ্যাত ‘অ্যাসপায়ার একাডেমি’তে, যা কাতারের বহু তারকা ফুটবলার তৈরির মূল কারিগর।
তাহসিনের বাবা জামশিদ নিজে একজন প্রতিভাবান ফুটবলার ছিলেন এবং ক্যালিকট ইউনিভার্সিটির হয়ে খেলেছেন। মূলত বাবার কাছ থেকেই ফুটবলের মূল অনুপ্রেরণা পান তাহসিন। তার মা শায়মা কান্নুর জেলার ওয়ালাপাত্তানামের বাসিন্দা।
কাতারের অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে মাঠ কাঁপানো তাহসিন অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে গোলও করেছেন। পরবর্তীতে তিনি প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে কাতারের শীর্ষ ঘরোয়া লিগ ‘কাতার স্টার্স লিগ’-এ ‘আল দুহাইল’ ক্লাবের হয়ে খেলে ইতিহাস গড়েন। গতি, ড্রিবলিং এবং ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করার দারুণ ক্ষমতার কারণে মূলত লেফট-উইঙ্গার হিসেবে খেলা তাহসিনকে কাতারের অন্যতম সম্ভাবনাময় তরুণ তারকা ভাবা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে কাতারের সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক হয় তাহসিনের। ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচেও তিনি স্কোয়াডে ছিলেন। যদিও মাঠে খেলার সময় কিছুটা কম পেয়েছেন, তবুও এই বয়সেই কাতারের মূল স্কোয়াডের অংশ হওয়া তার ক্যারিয়ারের এক মস্ত বড় মাইলফলক। বিশ্বকাপে যদি তিনি মাঠে নামার সুযোগ পান, তবে তা ভারতীয় ফুটবলের জন্যও এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হবে।
তাহসিনের এই বিশ্বমঞ্চের রোমাঞ্চের মাঝেই কেরালাবাসীর জন্য রয়েছে আরও একটি চমক। অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন মেলবোর্ন ভিক্টোরির ২৫ বছর বয়সী গতিময় উইঙ্গার নিশান ভেলুপিল্লাই। নিশানের আদি বাড়ি কেরালার পার্শ্ববর্তী রাজ্য তামিলনাড়ুতে। ফলে এবারের বিশ্বকাপে দুই প্রতিবেশী রাজ্যের দুই ভারত-সন্তানের মধ্যে কে প্রথম বিশ্বমঞ্চে ডেবিউ করবেন, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ক্রীড়াঙ্গন।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে স্বাগতিক কানাডা, সুইজারল্যান্ড এবং বসনিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে কাতার। নকআউট পর্বে যাওয়াটা তাদের জন্য সহজ হবে না, তবে তাহসিনের এই রাজকীয় অন্তর্ভুক্তি কেরালার ফুটবল উন্মাদনাকে যে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: