বিশ্বকাপের পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে মেসি, কোথায় এমবাপ্পে-রোনালদো
নকআউট পর্ব যত এগোচ্ছে, ততই বদলে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলারদের হিসাব।
রাউন্ড অব ৩২ এবং রাউন্ড অব ১৬-এর প্রথম দুটি ম্যাচ শেষে প্রকাশিত নতুন পাওয়ার র্যাঙ্কিংয়ে আবারও শীর্ষস্থান দখল করেছেন লিওনেল মেসি। এক ধাপ পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। অন্যদিকে পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জায়গাই পাননি সেরা ২০ ফুটবলারের তালিকায়। টিওয়াই স্পোর্টস
বিশ্বকাপজুড়ে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে এই র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে। শুধু গোল নয়, অ্যাসিস্ট, ম্যাচে প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান এবং গোলরক্ষকদের ক্ষেত্রে সেভ সবকিছুই বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
গ্রুপ পর্ব শেষে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিলেন মেসি। পরে রাউন্ড অব ৩২-এর শুরুতে তাকে টপকে যান এমবাপ্পে। তবে সর্বশেষ আপডেটে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আবারও এক নম্বরে উঠে এসেছেন।
৩৯ বছর বয়সেও মেসির পারফরম্যান্স বিস্ময় জাগাচ্ছে। গ্রুপ পর্বে ছয় গোল করার পর কেপ ভার্দের বিপক্ষেও গোল করেছেন তিনি। শুধু গোলই নয়, সতীর্থদের গোল তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে অ্যাসিস্ট এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজের গোলের পেছনেও ছিল তার নিখুঁত ক্রস। বয়স যে কেবল একটি সংখ্যা, সেটিই যেন আবারও প্রমাণ করছেন আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই তারকা।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমবাপ্পে অবশ্য এখনো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের একজন। সাত গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট নিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। গতি, ফিনিশিং এবং দূরপাল্লার শটে প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছেন ফরাসি অধিনায়ক।
তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। পাঁচ গোল করা এই স্ট্রাইকার কঙ্গোর বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেন। সেই পারফরম্যান্সই তাকে শীর্ষ তিনে জায়গা করে দিয়েছে।
ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র রয়েছেন চতুর্থ স্থানে। চার গোলের পাশাপাশি ড্রিবলিং, গতি এবং আক্রমণে ধারাবাহিক প্রভাবের কারণে তিনি ব্রাজিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে কিছুটা ভেতরের দিকে খেলেও নিজের কার্যকারিতা বাড়িয়েছেন এই উইঙ্গার।
বিশ্বকাপে অভিষেকেই নরওয়েকে শেষ ষোলোতে তুলেছেন আর্লিং হালান্ড। মাত্র তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন পঞ্চম স্থানে। গোলের সামনে তার কার্যকারিতা র্যাঙ্কিংয়েও প্রতিফলিত হয়েছে।
ষষ্ঠ স্থানে থাকা ফ্রান্সের মাইকেল অলিসে এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ পাঁচ অ্যাসিস্ট করেছেন। গোল না করেও সৃজনশীলতার কারণে তিনি সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় জায়গা ধরে রেখেছেন।
সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তিন ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে দল হারলেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনিওনেস অষ্টম স্থানে রয়েছেন। তিন গোলের পাশাপাশি আক্রমণে সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি দারুণ ভূমিকা রাখছেন। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি চার ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে উঠে এসেছেন। রক্ষণ ও আক্রমণ দুই বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন তিনি।
শীর্ষ দশের শেষ নামটি ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে। চার গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি ফরাসি আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
এদিকে সেরা ২০-এর তালিকায় নতুন করে জায়গা করে নিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের নেফতালি মানজাম্বি, কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ, মিশরের মোহাম্মদ সালাহ এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবাল। অন্যদিকে ব্রাজিলের ব্রুনো গুইমারেস, প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারসা ফোন্ডা এবং ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসনের অবস্থান আগের তুলনায় নিচে নেমেছে।
সবচেয়ে আলোচিত অনুপস্থিতি অবশ্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে গোল করলেও তার পারফরম্যান্স সেরা ২০-এ জায়গা পাওয়ার জন্য যথেষ্ট মনে করেননি র্যাঙ্কিং প্রস্তুতকারীরা। ফলে বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে মেসি-এমবাপ্পেরা আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও রোনালদোকে থাকতে হয়েছে তালিকার বাইরে।
তবে নকআউট পর্বে একটি দুর্দান্ত ম্যাচই বদলে দিতে পারে সব হিসাব। তাই কোয়ার্টার ফাইনাল ও পরবর্তী ম্যাচগুলো শেষ হলে এই র্যাঙ্কিংয়ে আরও বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাই বেশি।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: