[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গেমসের ক্যাম্প নিয়ে হাসফাঁস অবস্থা কর্মকর্তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৭:০৯ পিএম

হাসফাস অবস্থায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে অর্থ না পেলে গেমসে থাকা ক্যাম্প খুব বেশি দিন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর কর্মকর্তারা। বিদেশি কোচকেও বিদায় করে দিতে হবে কোন কোন ফেডারেশনকে। এমন তথৈবচ অবস্থার কথাই জানালেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।


কেউ ফেডারেশনের তহবিল থেকে খরচা করছেন। কেউ নিজেদের পকেট থেকে। আবার কেউ কেউ বন্ধুদের কাছ থেকে ধার করে ক্যাম্পের খরচা চালিয়ে নিচ্ছেন। এমন হাসফাস অবস্থায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে অর্থ না পেলে গেমসে থাকা ক্যাম্প খুব বেশি দিন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর কর্মকর্তারা। বিদেশি কোচকেও বিদায় করে দিতে হবে কোন কোন ফেডারেশনকে। এমন তথৈবচ অবস্থার কথাই জানালেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা।


অক্টোবরে বাহরাইনে এশিয়ান যুব গেমস, নভেম্বরে সৌদি আরবে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস এবং জানুয়ারিতে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমস। এই তিনটি গেমসে অংশ নিতে গত ১০ জুলাই থেকে ৫২ জন কুস্তিগীরের অংশগ্রহনে মিরপুর শহিদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে চলছে কুস্তির ক্যাম্প। কিন্তু দুই মাস হয়ে গেলেও এখনো তারা এক টাকাও পায়নি ক্রীড়া পরিষদের কাছ থেকে। ইতোমধ্যে ২৫ লাখ টাকা খরচা হয়ে গেছে। আপাতত ফেডারেশনের ফান্ড থেকেই সেই অর্থ খরচা করছেন কর্মকর্তারা। কিন্তু ফা-েরও দুরবস্থা। ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিনের কথা, ‘খুব দ্রুত ক্যাম্পের টাকা না পেলে কি যে হবে তা বলে বুঝাতে পারব না। সামনেই তিনটি গেমস।’

কুস্তির ক‌্যাম্পে অনুশীলন করাচ্ছেন সাবেক তারকা কুস্তিগীর শিরিন সুলতানা

ইসলামিক সলিডারিটি ও এসএ গেমসকে সামনে রেখে একই ইনডোরে ৪৯ জনকে নিয়ে ক্যাম্প চলছে উশুর। ১ আগষ্ট শুরু হলেও নিজেদের পকেট থেকে ক্যাম্পের খরচা চালাচ্ছেন কর্মকর্তারা। এর মধ্যে দুই বিদেশি কোচের বিমান ভাড়া ও পকেট মানিও দিতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৩ লাখ টাকা খরচা হয়েছে তাদের। যার সবটাই নিজেদের পকেট থেকে। সাধারন সম্পাদক দিলদার হাসানের কথা, ‘নিজেদের পকেট থেকে এ পর্যন্ত চালিয়ে নিয়ে এসেছি। আর পারছি না। কি হবে জানি না। তবে ক্রীড়া পরিষদ বলেছে, এ মাসের মধ্যেই টাকা দেবে। দিলে ভাল, না দিলে হয়তো বাড়ি বন্ধক রাখতে হবে।’

মিরপুর ইনডোরে চলছে উশুর প্রশিক্ষণ ক‌্যাম্প

গত ১ আগষ্ট থেকে এশিয়ান যুব গেমস ও এসএ গেমসের জন্য ২৬ জনকে নিয়ে শহিদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে ক্যাম্প চলছে ব্যাডমিন্টনের। ইন্দোনেশিয়া থেকে তিন হাজার মার্কিন ডলারের কোচ আনলেও এখনো তার একমাসের বেতন বাকি। এক কোচের পেছনেই তাদের খরচা পাঁচ লাখ টাকা। গত প্রায় দেড় মাসে ক্যাম্পের খরচ ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। সাধারন সম্পাদক রাসেল কবির বলেন, ‘এক কোচের বাজটেই মাসিক পাঁচ লাখ টাকা (বেতন ও থাকা-খাওয়া)। এখনো কোন টাকা পাইনি। নিজের ও বন্ধুদের পকেট থেকে টাকার সঙ্কুলান করতে হয়েছে। এ মাসে টাকা না পেলে কোচকে বিদায় করে দিতে হবে।’ একই দশা অন্য ক্রীড়াফেডারেশনগুলোতেও।

শহিদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে চলছে ব‌্যাডমিন্টনের ক‌্যাম্প

তবে সংকট কেটে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান। তার কথা, ‘ফেডারেশনগুলোকে ক্যাম্পের টাকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। আসলে ক্রীড়া পরিষদে নতুন নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসাম যোগ দিয়েছেন। তাই হয়তো একটু দেরি হচ্ছে। আশাকরছি এই সপ্তাহেই সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। বিয়টি নিয়ে আজকেও (রোববার) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে।’

 

 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর