আর্থিক নিশ্চয়তার সংশয়ে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো!
সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসকে সামনে রেখে কেউ ছয়মাস, কেউ তিনমাস ক্রীড়াবিদদের অনুশীলন করিয়েছিলেন। অনেক ফেডারেশন আবার বিদেশি কোচও এনেছিলেন। হঠাৎ করেই পাকিস্তান এসএ গেমস স্থগিত করে দেওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় ওই গেমসের ক্যাম্প। কিন্তু ক্রীড়াবিদদের জন্য অনুশীলন ক্যাম্পে করা সেই খরচা এখনো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে পাননি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। তাই আসন্ন এশিয়ান বিচ গেমসে ক্যাম্পের খরচা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন তারা।
চীনের সানিয়াতে ২২-৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান বিচ গেমস। বাংলাদেশের বেশ কিছু ডিসিপ্লিন অংশ নেবে এই গেমসে। বুধবার ওই ডিসিপ্লিনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান। এ সভাতেও অনুশীলনের জন্য যাবতীয় খরচা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বহন করার আশ^াস দিয়েছে। যদিও আগের ক্যাম্পের অর্থ এখনো পাননি ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। তাই নতুন ক্যাম্প নিয়ে কিছুটা সংশয় ও দীর্ঘশ্বাসও রয়েছে তাদের মধ্যে।
হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এসএ গেমসের ক্যাম্পে আমরা প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো খরচা করেছিলাম। কিন্তু এখন অবদি এক টাকাও পাইনি। তারপরও বিচ গেমসের জন্য গত ৮ জানুয়ারি থেকে অনুশীলন শুরু করেছি।’
কাবাডি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগের কথা, ‘সরকারের টাকা যখন, অবশ্যই পাব। যদিও আমাদের অর্থকষ্ট হচ্ছে। তারপরও আমরা ছেলে ও মেয়ে ২৪ জনের তালিকা করেছি। খুব শিগগিরই অনুশীলন শুরু করবো।’ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, ‘আমরা একমাস আগেই অনুশীলন শুরু করেছি ৩০০ ফিটে বালির মধ্যে। আগের টাকা না পেলেও অংশ নেওয়ার জন্য এটুকু কষ্টতো সহ্য করতেই হবে।’
ক’দিন আগে মালদ্বীপ থেকে ব্রোঞ্জ জিতে এসেছেন ভলিবলের মেয়েরা। তাই ছেলে দুজনের পাশাপাশি দুজন মেয়ে খেলোয়াড়কেও পাঠাতে আগ্রহী ভলিবল। সাধারন সম্পাদক বিমল ঘোষের কথা, ‘আমরা ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের পাঠানোর জন্যও আবেদন করেছি। তবে আমাদের হাতে তেমন কোন অর্থ নেই। আগের টাকাই আমরা পাইনি। কি করব বুঝতে পারছি না।’ তবে আগের অর্থ খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে বলে জানান মোহাম্মদ আমিনুল এহসান, ‘বিভিন্ন ফেডারেশনের আগের ক্যাম্পের বকেয়ার ফাইল এখন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আশাকরি খুব শিগগিরই ছাড় মিলবে।’
সভা সূত্রে জানা গেছে, হ্যান্ডবল, ভলিবল, কাবাডি ও উশুকে পলটনের আউটার স্টেডিয়ামের সমন্বয় করে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যদিও দুই বেলা অনুশীলনের সমন্বয় কিভাবে হবে সময়ের সেই অংক মেলাতে পারছেন না ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে অনুশীলনে বিচের স্বাদ আনতে কক্সবাজারে ক্যাম্প করার অনুরোধও ক্রীড়া পরিষদের কাছে করেছেন তারা। বাজারের চড়ামূল্য নিয়েও ভাবছেন কর্মকর্তারা। বিমল ঘোষের কথা, ‘গত বছর ফি দিন ক্রীড়াবিদদের জন্য সাতশ’ টাকা বরাদ্দ করে ট্যাক্স হিসাবে এক টাকা কেটে রাখলে এবার আর হবে না বলেই মনে হচ্ছে।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: