[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৪ঠা জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

টিটির বেহাল দশা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:১০ পিএম

এবার এশিয়ান টিটি চ্যাম্পিয়নশিপেও ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশের। ছেলেরা ২২ দেশের মধ্যে ১৯তম এবং মেয়েরা ২০ দেশের মধ্যে ২০তম হয়ে দেশে ফিরেছে।


গত আগষ্টে নেপালে অনুষ্ঠিত বিশ্ব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের রিজিওনাল কোয়ালিফাইং রাউন্ডে হতাশ করেছিলেন লাল সবুজের ছেলে মেয়েরা। পাঁচ দলের মধ্যে দুই দলই পঞ্চম হয়েছিল। হেরেছিল ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপের বিপক্ষে। এবার এশিয়ান টিটি চ্যাম্পিয়নশিপেও ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশের। ছেলেরা ২২ দেশের মধ্যে ১৯তম এবং মেয়েরা ২০ দেশের মধ্যে ২০তম হয়ে দেশে ফিরেছে।


দেশের ক্রীড়া ডিসিপ্লিনগুলোর মধ্যে অন্যতম টেবিল টেনিস। শহিদ তাজউদ্দিন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে সারা বছরই আবাসিক ক্যাম্প চলমান। কিন্তু বছরব্যাপী অনুশীলনে থাকলেও ফলাফল শূণ্য। বর্তমান কমিটি আসার পর প্রত্যেকটি আন্তর্জাতিক আসরের আগে বাছাই প্রক্রিয়া চালু করে। যা নিয়ে ক্ষোভ ছিল খেলোয়াড়দের মধ্যে। তাদের দাবী ছিল র‌্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে বিদেশের টুর্নামেন্টে পাঠানো হোক। এ নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। তারপর নেপালে বিশ্ব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই খেলতে গিয়ে হতাশ করেন তারা।


হতাশার চক্র থেকে উত্তরনের জন্য থাইল্যান্ড থেকে ২৫ বছর বয়সী কোচ প্যাটারাথ্রোর্ন পাসারাকে এনেও ধ্বস ঠেকানো যায়নি। ভারতের ভুবনেশ্বরে ১১-১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় এশিয়ান টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ। এই আসরেও ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ ও নারী দুই দলই। ছেলেরা থাইল্যান্ডের কাছে ৩-০, কাতারের কাছে সমান ব্যবধানে এবং কিরগিজস্তানের কাছে হেরে ২২ দলের মধ্যে ১৯তম হয়েছে। যদিও দুর্বল দুই প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ ও নেপালের বিপক্ষে জয় পেয়েছে।

অন্যদিকে মেয়েরা তাদের সবগুলো ম্যাচ অর্থাৎ চাইনিজ তাইপের কাছে ৩-০, ম্যাকাওয়ের সঙ্গে ৩-২ ও কিরগিস্তানের সঙ্গে ৩-১ সেটে হেরে ২০ দলের মধ্যে ২০তম হয়েছে। অথচ ২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৬তম এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুই বিভাগে এই খেলোয়াড়দের নিয়েই বাংলাদেশ ১৪তম হয়েছিল।


আগে সব দেশ খেলতে পারতো কিন্তু এখন মাত্র ৭২টা দেশ ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ খেলে। কিছুদিন আগে চালু হওয়া এই এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ আগামী বছর লন্ডনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই হিসেবেও গণ্য হয়। এই বছরে এশিয়ানের দলগত অবস্থান থেকে ১৫ টি দল আগামী বছর লন্ডন ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে খেলবে । যদি ছেলে ও মেয়েদের দল দুটি, গতবারের ১৪ তম স্থানও ধরে রাখত, এমনকি যদি ১৫ হতো, তাহলেও তারা আগামী বছর ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে পারতো। গত বছর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। সে হিসেবে বাংলাদেশের ভরাডুবিই হয়েছে। বাংলাদেশ দলের এই ভরাডুবির মূল কারণ, সঠিক দিকনির্দেশনা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, খেলোয়াড়দের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দূরত্ব।

জাতীয় টিটি দলের অন্যতম সদস্য মো. জাবেদ আহমেদ ফল কিছুটা ভাল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। শুক্রবার ভুবনেশ^র থেকে রওয়ানা হওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফল অতটা খারাপ হয়নি। আগস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের রিজিওনাল কোয়ালিফিকেশনে মালদ্বীপ ও নেপালের কাছে হেরেছিলাম। এবার জিতেছি । তবে কোয়ালিফাই করতে পারিনি এটাও ঠিক ।’ এখানে উল্লেখ্য, গতবারের আগে মালদ্বীপ কোনদিনও বাংলাদেশের সঙ্গে জিততে পারেনি এবং কিছুদিন আগে নেপালও বাংলাদেশের সঙ্গে হারতো । যে খেলাটি ক’দিন আগেও কমনওয়েলথ গেমসে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল, সাউথ এশিয়ান জুনিয়রে স্বর্ণ বা রুপা জিততো, সেই খেলার এই হাল খুবই দুঃখজনক বলে মন্তব্য টিটিপ্রেমীদের।

 

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর