[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোয়ান্টামে ক্রিকেট, ফুটবল ছিল না বলেই আমি টিটিতে: খই খই মারমা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০১ পিএম

টেবিল টেনিসে তারকা হতে খুব বেশি সময় নেননি বান্দরবানের মেয়ে খই খই সাই মারমা।

মাত্র ১০ বছরেই ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশের ইতিহাসে রৌপ্যপদক জিতে এনেছেন। অবশ্য তা ছিল মিশ্র দ্বৈতে। জাবেদ আহমেদকে সঙ্গী করে তার এই ইতিহাস। টেবিল টেনিসে নিজের আদ্যোপান্ত নিয়ে কথা বলেছেন খই খই মারমা।

প্রশ্ন: দেশের টিটিতে ইতিহাস তৈরী করেছেণ আপনি। অবশ্য তার অংশীদারিত্ব ছিলেন জাবেদও। কেমন লাগছে?
খই খই মারমা: খুব ভাল লাগছে। যদিও আমার ক্যারিয়ার খুব বেশিদিনের নয়। তারপরও দেশের জন্য পদক জিতে আনা সত্যিই গর্বের বিষয়। দেশকে গর্বিত করতে পেরে আমি খুশী।

প্রশ্ন: টেবিল টেনিসে আপনার জার্নি শুরু কোথা থেকে?

খই খই মারমা: পরিবারে আর্থিক সমস্যা ছিল। আমরা যেহেতু দুই বোন, তো বড় বোনকে এবং আমাকে চালানো (পরিবারের পক্ষে) অসম্ভব ছিল। তাই আমাকে কোয়ান্টামে ভর্তি করায় দেয় ২০১৫ সালে। ওখানে বাছাই হতো কে কোন খেলায় যাবে। কোচরা আমাকে টিটিতে দেন। প্রথমে মজা করে খেলতাম। পরে খেলাটা ভালো লেগে যায়। খুব গুরুত্ব দিয়ে খেলা শুরু করি ২০১৭-১৮ সালে।

প্রশ্ন: কোয়ান্টাম থেকে জাতীয় পর্যায়ে আসার জার্নিটা ক্যামন ছিল?

খই খই মারমা: পথটা খুব একটা সহজ ছিল না। কোয়ান্টাম থেকে শুরুতে ইন্টার স্কুল এইসব টুর্নামেন্টে পার্টিসিপেট করায়। তো ওইখান থেকে খেলতে খেলতে মাঝে মাঝে ঢাকায় আসতাম খেলতে। সেখানেই আমার খেলা দেখে ১৯ সালে ক্যাম্পে ডাকে ফেডারেশন। সেখানে আমাকেসহ আরও যে তিনজন কোয়ান্টামে খেলোয়াড়কে ডাকা হয়। কারণ আমাদের খেলা তাদের পছন্দ হয়। তারপরে আবার ২০ সালের দিকে ক্যাম্পে ডাকে। এবং পরে ফেডারেশন আমাদের চারজনের দায়িত্ব নেয়। বিশেষ করে ফেডারেশনের আগের কমিটির সাইমন স্যার ছিলেন, উনি আমাদের সব দেখাশোনা করতেন, আমাদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পরে ওইখান থেকে দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্পে আমার খেলার জার্নি শুরু এবং ওইখান থেকে আমার খেলার উন্নতি শুরু।

প্রশ্ন: আপনার যাত্রা যেখান থেকে শুরু কোয়ান্টাম স্কুলে কি কি ফ্যাসিলিটিজ ছিল?

খই খই মারমা: ওইখানে অনেকগুলো খেলাই ছিল। শুধু ক্রিকেট, ফুটবল আর হকি বাদে প্রায় সব খেলাই ছিল। তো প্রায়োরিটি সব গেমেই ছিল। কিন্তু টেবিল টেনিস আর জিমন্যাস্টিক্সে সবচেয়ে বেশি ফ্যাসিলিটিস ছিল, যেহেতু জিমন্যাস্টিক্সে ওদের রেজাল্ট বেশি। তারপর টেবিল টেনিসেও আরকি একটু ফ্যাসিলিটিস ছিল, প্রায়োরিটি ছিল। তাই আমাদের সেখানে খেলায় উন্নতিটা খুব যতœ সহকারেই হয়েছে।

প্রশ্ন: চলমান জাতীয় চ্যাম্পিয়নশীপে কোয়ান্টাম থেকে কয়জন খেলোয়াড় এসেছেন?

খই খই মারমা: কয়েক জন খেলতে আসছে কোয়ান্টাম থেকে। বাট এরকম মানে খেলার প্রতি এখন জোরদার করা হয় না। কারণ পড়ালেখার উপর নাকি বেশি চাপ দেওয়া হয়, এইজন্য খেলার প্রতি আর ঐরকম ঝোঁক নাই। ওরা শুধু ইন্টার স্কুল খেলে, আর ঢাকায় ঐরকম খেলতে আসে না। কারণ আর্থিক সমস্যা রয়েছে খানিকটা। যারা এসেছেন ওরাও নাকি নিজেদের খরচে আসে এখন।

প্রশ্ন: দেশের নারী ফুটবলে বান্দরবান বা ঐ অঞ্চল থেকে বেশি কিছু প্রতিভাবান ফুটবলার এসেছে, আরও আসছে। তো আপনি ফুটবলে না গিয়ে কোনো টেনিসকে বেছে নিলেন?

খই খই মারমা: কোয়ান্টামে তো ফুটবল, ক্রিকেট আর হকি ছিল না। তো শুরুতে আমার ওইখানে ওরকম মানে খেলার প্রতি তো ওরকম ঝোঁক ছিল না, আমার ইন্টারেস্ট ছিল শুধু পড়ালেখার প্রতি। বাট ওনারাই (কোয়ান্টামের শিক্ষকরা) সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাকে তারা টেবিল টেনিসে খেলার সঙ্গে যুক্ত করে দেয়। তো ফার্স্টে টেবিল টেনিস যখন খেলি তখন তো বুঝতেই পারতাম রা তাই খেলতেও পারতাম না একেবারে নতুন। তখন তো খেলতে মজাই লাগত না। ধীরে ধীরে বুঝতে শিখলাম শট শিখলাম এভাবেই জুড়ে যাই এই খেলার সঙ্গে তারপর আরকি প্রফেশনালি খেলা শুরু করছি।

প্রশ্ন: টেবিল টেনিস ছাড়া আর কোন স্পোর্টসের প্রতি আপনার কোন আগ্রহ আছে?

খই খই মারমা: না, ওরকম নাই। কোনো সময় ফুটবল-ক্রিকেট বা অন্য খেলা আমি খেলিনি। আমার তো শুরু থেকেই ফোকাস ছিল পড়াশুনায়। তো সেইভাবে আর খেলাধূলোর সঙ্গে আমার যোগাযোগও ছিল না। টেবিল টেনিস ই আমার খেলা প্রথম স্পোর্টস। এখন এটাই ভালো লাগে।


প্রশ্ন: টেবিল টেনিসের ন্যাশনাল টুর্নামেন্ট তো প্রায় দুই বছর পরে হচ্ছে। সবশেষ আসর হয়েছিল ২০২৩ সালে সেবার কি আপনি অংশ নিয়েছিলেন?

খই খই মারমা: জি, আমি পার্টিসিপেট করছিলাম। ওইখানে জুনিয়র, মিক্সড, সিনিয়রে মিক্সড এবং টিমস-এ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম।

প্রশ্ন: এবারের আসরটা আপনার কাছে কেমন লাগছে?

খই খই মারমা: এবারের আসরে আমি সেনা বাহিনীর হয়ে খেলছি। ২০২৩ সালের চেয়ে এবারের ন্যাশনালটা আসলেই মানে অনেক প্লেয়ার আসছে, অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী। তো আসলেই দেখে অনেক ভালো লাগছে।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর