এবার দ্বৈত গান গেয়ে প্রশংসায় ভাসছেন টেবিল টেনিস তারকা মানস ও ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় রুনা
টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে সাফল্যের শিখরছোঁয়া মানস একজন পেশাদার সংগীতশিল্পীও। যে জগতে তাকে মানুষ চেনে রঞ্জন চৌধুরী নামে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পী হিসেবে অসংখ্য আধুনিক গানে একটা অবস্থান তৈরি করেছেন দুই দশকের বেশি সময় ধরে।
দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের ঘরোয়া টেবিল টেনিসের রাজা মানস চৌধুরী। বয়স পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই। অথচ এখনো তরুণদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছেন সমানতালে। অসংখ্য তরুণের ভিড়ে পিংপং বলের রোমাঞ্চকর খেলাটিতে এখনো তার জয়রথ ছুটছে। অভিমানে ২০২১ সালে জাতীয় দল ছাড়লেও ফর্মের তুঙ্গে থাকায় খেলাটা ছাড়া হয়নি। তাই তো র্যাঙ্কিংয়ের দ্বিতীয় স্থান অনেক দিন ধরেই তার দখলে। তিনি ৫ বারের ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পয়ন ও ৫ বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন।
টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে সাফল্যের শিখরছোঁয়া মানস একজন পেশাদার সংগীতশিল্পীও। যে জগতে তাকে মানুষ চেনে রঞ্জন চৌধুরী নামে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পী হিসেবে অসংখ্য আধুনিক গানে একটা অবস্থান তৈরি করেছেন দুই দশকের বেশি সময় ধরে। প্লে-ব্যাক সিঙ্গার হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সংগীত পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ ঘটেছে তার। এখন ওপার বাংলার জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের সঙ্গে গান করছেন বেছে বেছে। গান করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী শুভমিতার সঙ্গেও।

সেই ধারাবাহিকতায় এবার দেশের আরেক জনপ্রিয় শিল্পী ও সাবেক ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন আফসানা রুনার সঙ্গে গেয়েছেন দ্বৈত রোমান্টিক গান। ‘দিন চলে যায়, রাত কেটে যায়, আনমনে মন তোমাতে হারায়’ শিরোনামের একটি গান রঞ্জন চৌধুরীর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে রিলিজ হয়েছে ১৫ মার্চ। গানটি এরই মধ্যে শ্রোতাদের মাঝে প্রচুর সাড়া পেয়েছে।
মানসের সঙ্গে গান গাওয়া রুনা এক সময় নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু খেতাব পাওয়া রুনা ১৯৯২ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত ইন্টার স্কুল ও মাদ্রাসায় জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। এছাড়া ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন। তিনি ১৯৯৫ সালে জাতীয় প্রতিযোগিতায় একক ও মিশ্র দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন হন।
পেশাদার সঙ্গীত শিল্পী রুনা বর্তমানে নজরুল ইনস্টিটিউট ও ছায়ানটের গানের শিক্ষিকা। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্তি শিল্পীও তিনি। প্রচুর সিনেমায় প্লে ব্যাক করেছেন।
মানস চৌধুরী এর আগে প্রচুর গানে সুর করেছেন। কিন্তু এবারই প্রথম গান লিখেছেন। এ প্রসঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই আমার প্রথম লেখা গান। সবাই প্রশংসা করেছে গানটি শুনে।’
এর আগে ভারতীয় বিখ্যাত সঙ্গীত শুভমিতার সঙ্গে ডুয়েট গেয়েছেন তিনটি গান। যে গানগুলা কলকতায় ও বাংলাদেশের শ্রোতারা খুবই পছন্দ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার এই গান গেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রুনা যখন প্রস্তাব দিল তখন গানটির সুর করাই ছিল। এরপর তাকে শোনানোর পরে গান রেকর্ডিংয়ের কাজ শুরু হয়।’
খেলা আর গানের জগতে মানসের বিচরণ প্রাণের টানে। এর দুটির একটিও তার জীবিকা নয়। জীবিকা হিসেবে চিকিৎসা পেশাকে বেছে নিয়েছেন অসম্ভব মেধাবী ছাত্র মানস। নিজ শহর চট্টগ্রামে দন্ত চিকিৎসক হিসেবে মানুষের হৃদয়ে গড়েছেন আস্থার জায়গা। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কাছে তিনি একজন মানবিক ডাক্তার। অসংখ্য মানুষকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা দিয়ে এই অঙ্গনেও মানসের স্থান সম্মানের আসনে।
খেলা, গান ও চিকিৎসা তিনটির সমন্বয় কিভাবে করেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা আমার জন্য নিয়মিত ব্যাপার হয়ে গেছে। সময়টা সুষ্ঠুভাবে বন্টন করে নিই। যদিও গান রিলিজের আগে রেকর্ডিং ও মিক্সিংয়ে একটু বেশি সময় দিতে হয়। চেম্বারের পরও আমাকে সময় দিতে হয়।’
এক সময় নিয়মিত প্লে ব্যাকে গান গাওয়া মানস বলেন, ‘আসলে এখন ওইভাবে বাধ্য-বাধকতা নেই যে সিনেমায় গান করতেই হবে। ২০০১ সাল থেকে সিনেমায় গান করি। এখন গান করতে বিভিন্ন জনকে অনুরোধ করতে হয় যেটা আমার দ্বারা সম্ভব না। তবে সামনে যদি সুর ও গানের কথা সব পছন্দ হয় তাহলে আমি সিনেমায় গান করবো।’

সম্প্রতি মানস সোলসের বেজ গিটারিস্ট তানিম হাসানের সুরে ও কথায় নতুন গানের কাজ করছেন।
খেলাধুলা নিয়েও তেমন ব্যস্ততা নেই বলে জানালেন তিনি, ‘দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির কারণে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিই না। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ আনসারের জুনিয়রদের মেন্টর হিসেবে কাজ করছি। তাদের প্র্যাকটিস সিডিউল দেওয়া থেকে শুরু করে টেকনিক শেখানো, সব কাজ করছি।’
আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে টেবিল টেনিস লিগ হতে পারে। সেটার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন মানস। সর্বশেষ লিগে বাংলাদেশ পুলিশকে দলগত চ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। গত ১৪ মৌসুমে যেসব দলের হয়ে তিনি খেলেছেন সব দলই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শেখ রাসেল টিটি ক্লাব, পাললিক টিটি ক্লাব, অরুনিমা স্পোর্টস ও পুলিশ।
গান, চিকিৎসা, খেলা তিনটির মধ্যে গানে মনোযোগ বেশি। খেলাটা নিজের ফিটনেস ধরে রাখার জন্য চালিয়ে যান। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমার এই বয়সে এসে শতভাগ প্রতিযোগিতামূলক খেলায় সবার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। তাই নিজের প্র্যাকটিসের চেয়ে জুনিয়রদের মেন্টরিং ও নিজের ফিটনেস ধরে রাখাতেই প্রাধান্য দিচ্ছি।’
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: