[email protected] শুক্রবার, ৫ই জুন ২০২৬
২১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কুলসুমকে ঘিরে আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:১১ পিএম

তীর এশিয়ান আরচ্যারী চ্যাম্পিয়নশিপস-২০২৫-এর তৃতীয় দিনের খেলা চলছে। জাতীয় স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকালের সেশনে বাংলাদেশের স্বপ্ন কুলসুম আক্তার মনিকে ঘিরে। কম্পাউন্ড নারী এককের সেমি-ফাইনালে উঠেছেন ঠাকুরগাঁ থেকে উঠে আসা এই আরচ্যার।

 

কম্পাউন্ড মহিলা এককে ‘বাই’ পেয়ে ১/১৬-তে ওঠা বাকি তিন আরচ্যারের মধ্যে কুলসুম আক্তার মনিকে ঘিরে আশা বেঁচে আছে বাংলাদেশের। কুলসুম আক্তার ইরানের ফাতিমা বাঘেরিকে (Bagheri Fatemeh) ১৪৫-১৪৩ স্কোরে হারানোর পর ভারতের দ্বীপশিখাকে ১৪২-১৪০ ব্যবধানে হারান। কোয়ার্টার-ফাইনালে কুলসুম কাজাখস্তানের (Yunussova Roxana) ইউনুসোভা রোক্সানার বিপক্ষে জিতেন ১৪৬-১৪৪ পয়েন্টে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী বৃহস্পতিবার তিনি মুখোমুখি হবেন ভারতের (Pradeep Prithika) প্রদীপ প্রিথিকার।
(ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী বৃহস্পতিবার তিনি মুখোমুখি হবেন ভারতের (Pradeep Prithika) প্রদীপ প্রিথিকার।–আগের প্রেস রিলিজে ভুলবশত এই লাইনে আজ বিকালের সেশনে কুলসুমের ম্যাচ থাকার কথা লেখা হয়েছিল। এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত)
সেমি-ফাইনালে ভালো কিছু করার আশাবাদ জানিয়ে কুলসুম বলেন, “আমার ইভেন্ট থেকে সতীর্থরা সবাই বিদায় নিয়েছে, তবে আমি টিকে আছি বলে কোনো চাপ অনুভব করছি না। চাপ কেন নিব? এতদিন আমরা পরিশ্রম করেছি একটা কিছু পাওয়ার জন্যই। তাই সেমি-ফাইনালেও আমি নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার চেষ্টা করব। এই পতাকার (জার্সিতে বাংলাদেশের পতাকার লোগো দেখিয়ে) জন্যই খেলি, নিজের দেশের হয়ে খেলা আলাদা শান্তি।”
“আমি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ভাইরাল হতে চাই না। হাইলাইট হতে চাই না। আমাকে হাইলাইট হতে হবে নিজের যোগ্যতা দিয়ে, আমার সাফল্য দিয়ে। নিজের যোগ্যতা দিয়ে যখন জানবে, তখন সারা পৃথিবী জানবে আমাকে।”

রিকার্ভ পুরষ এককে হতাশই হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ‘বাই’ পেয়ে ১/২৪ এর ম্যাচে চাইনিজ তাইপের (Liu Tai-Yen) লিউ তাই ইয়েনকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে (২৫-২৬, ২৬-২৬, ২৮-২৭, ২৮-২৮, ২৭-২৯) হারিয়ে ভালো শুরু পেয়েছিলেন রাকিব মিয়া। ১/১৬-এর লড়াইয়ে ভারতের (Bhoge Yashdeep Sanjay) সঞ্জয় ইয়াশদিপ ভোগেকে ৬-৪ সেট পয়েন্টে (২৮-২৯, ২৫-২৬, ২৭-২৪, ২৯-২৮, ২৭-২৯) হারিয়ে ১/৮-এর মঞ্চে উঠেছিলেন ভালো কিছুর আশা জাগিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার (Jang Chaehwan) জ্যাং চায়েওয়ানের কাছে ৬-৪ সেট পয়েন্টে (২৯-২৯, ২৬-২৬, ২৯-২৮, ২৬-২৯, ২৭-২৯) হেরে বিদায় নেন রাকিব।

শুরুতে আনন্দ থাকলেও শেষটা নিয়ে হতাশ রাকিব বলেন, “ভারতের আরচ্যারকে হারানোর পরও আমি ভেবেছি, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আমি নিজেই। তবে আত্মবিশ্বাস বেড়েছিল। তবে শেষটা নিয়ে সন্তুষ্ট নেই, মোটামুটি পারফরম করেছি বলব। আসলে দক্ষিণ কোরিয়ানরা তো আমাদের চেয়ে ভালো। মূলত তাদের সাথে আমাদের মানসিক সামর্থ্যের তফাৎ আছে। আমরা যথেষ্ট পরিশ্রম করি, তবে মানসিক শক্তি বাড়াতে পারলে আমরা আগামী আরও ভালো করতে পারব।”

রিকার্ভ এককে বাংলাদেশের আব্দুর রহমান আলিফ ১/২৪-এ মালয়েশিয়ার (Muhammad Haiqal Danish Syamsul Affandi) মুহাম্মাদ হাইকাল দানিশ শিয়ামসুল আফান্দিকে ৬-৫ সেট পয়েন্টে (২৭-২৯, ২৭-২৭, ২৫-২৭, ৩০-২৮, ২৯-২৩) হারান। এরপর ১/১৬ তে দক্ষিণ কোরিয়ার (Jang Jiho) জ্যাং জিহো’র বিপক্ষে আলিফ জিতেন ৬-৫ সেট পয়েন্টে (২৭-২৮, ২৮-২৭, ২৪-৩০, ২৯-২৬, ২৬-২৬)। কিন্তু কাজাখস্তানের (Abdullin Ilfat) আব্দুলিন ইলফাতের কাছে ৭-৩ সেট পয়েন্টে (২৮-২৭, ২৭-২৯, ২৭-২৮, ২৯-২৯, ২৯-৩০) হেরে ১/৮-এর মঞ্চ থেকে ঝরে যান আলিফ।

‘বাই’ পেয়ে সোমবার এলিমিনেশন রাউন্ড শুরু করা সাগর ইসলাম ১/২৮ থেকে বিদায় নিয়েছেন ভিয়েতনামের (Le Quoc Phong) লে কুয়োক ফোংয়ের কাছে ৬-৪ সেট পয়েন্টে (২৯-২৬, ২৫-২৮, ২৯-২৭, ২৭-২৮, ২৭-২৪) হেরে। এ ইভেন্টে বাংলাদেশের আরেক প্রতিযোগী রাম কৃষ্ণ সাহা ‘বাই’ পেয়ে শুরু করেছিলেন ১/১৬ থেকে, সেখানে লে কুয়োক ফোংকে ৬-৫ সেট পয়েন্টে (২৮-২৯, ২৭-২৮, ২৭-২৫, ২৭-২২, ২৭-২৭) হারান তিনি। এরপর ১/৮-এর লড়াইয়ে রাম কৃষ্ণ ৬-৪ সেট পয়েন্টে (২৭-২৫, ২৮-২৮, ৩০-২৭, ২৭-২৮, ২৮-২৮) ভারতের রাহুলের কাছে হেরে যান। ফলে রিকার্ভ পুরুষ এককে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের চার আরচ্যারই ছিটকে গেল।
রিকার্ভ মহিলা একক থেকে বাংলাদেশের চার আরচ্যারই বিদায় নিয়েছেন। সোনালি রায় ১/১৬-এর লড়াইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার (Jang Minhee) জ্যাং মিনহির কাছে ৬-০ সেট পয়েন্টে (২৯-২৫, ৩০-২২, ২৯-২৭), শিমু ভারতের অঙ্কিতা ভাকাতের (Bhakat Ankita) কাছে ৭-১ সেট পয়েন্টে (৩০-২৩, ২৯-২৫, ২৬-২৬, ২৮-২৭), ইতি খাতুন ভারতের (Anshika Kumari) অংশিকা কুমারির কাছে ৬-৪ সেট পয়েন্টে (২৫-২৪, ২৫-২৯, ২৮-২৬, ২৭-২৮, ২৭-২৫) ও মনিরা আক্তার মালয়েশিয়ার (Mohamad Zairi Ariana Nur Diana) মোহামাদ জাইরি আরিয়ানা নুর দিয়ানার কাছে ৬-২ সেট পয়েন্টে (২৫-২৬, ২৭-২৭, ২৭-২৭, ২৪-২৭) হেরেছেন।
কম্পাউন্ড পুরুষ এককে আগেই বিদায় নিয়েছিলেন নাওয়াজ আহমেদ রাকিব, সোহেল রানা ও মোহাম্মাদ আশিকুজ্জামান। বাকি ছিল হিমু বাছাড়ের খেলা। এলিমিনেশন রাউন্ডের প্রথম ধাপে ‘বাই’ পাওয়া হিমু মঙ্গলবার ১/১৬-এর লড়াইয়ে ভুটানের (Gaytshey Tshetum) গাইতসে তেশিতুমের কাছে ১৪৩-১৪১ স্কোরে হেরে ছিটকে যান।
কম্পাউন্ড মহিলা এককে পুষ্পিতা জামান দক্ষিণ কোরিয়ার (Park Jungyoon) পার্ক জং উনের বিপক্ষে টাইব্রেকে ১৪২-১৪২ (১০-১০+) জয়ের পর কাজাখস্তানের (Yunussova Roxana) ইউনুসোভা রোক্সানার কাছে ১৪৫-১৪৩ স্কোরে হেরে ছিটকে যান ১/৮ থেকে। এই ইভেন্টে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা ছিল বন্যা আক্তারের কাছে। ইরানের (Asheghzadeh Oskouei Bita) আশেকজাহেদ ওসকুয়েই বিতার কাছে ১৪১-১৩৯ স্কোরে হেরে বন্যা বিদায় নিয়েছেন ১/১৬ থেকে।
রিকার্ভ মহিলা দলগত বিভাগে ইরানকে ৫-৪ সেট পয়েন্টে (৩৯-৫৫, ৫২-৫১, ৪৯-৫৪, ৫৫-৫১) হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। কিন্তু সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াই ইতি-সোনালি-শিমুকে নিয়ে গড়া দল দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে যায় ৬-০ সেট পয়েন্টে (৫৬-৫০, ৫৩-৫১, ৫৫-৫৩)।
রিকার্ভ মহিলা দলগত বিভাগে উজবেকিস্তানকে ৬-০ সেট পয়েন্টে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছে মালয়েশিয়া।
কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত বিভাগে এলিমিনেশন রাউন্ডের শুরুতেই ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। আশিকুজ্জামান-হিমু বাছাড়-নেওয়াজ আহমেদ রাকিবকে নিয়ে গড়া দল ২৩৪-২৩০ স্কোরে (৫৯-৫৯, ৫৪-৫৯, ৫৭-৫৮, ৬০-৫৮) হেরেছে চাইনিজ তাইপের কাছে।
কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত বিভাগে থাইল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ২৩৫-২৩৫ সমতায় শেষের পর টাইব্রেকারে তিন তীর ছোঁড়ার লড়াইয়ে ৩০-২৯ স্কোরে জেতে দক্ষিণ কোরিয়া।

ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর