সৌদি আরবে ৩৫ দেশের ক্রিকেটারদের নারী টি–টোয়েন্টি লিগ
ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েই চলেছে সৌদি আরব। ফুটবলে তো দেদারসে অর্থ ঢালছেই, ক্রিকেটসহ অন্য খেলাতেও পিছিয়ে নেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তারা বিনিয়োগ করছে পেশাদার নারী ক্রিকেটেও। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই টুর্নামেন্ট অন্তত পাঁচটি আসর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিশ্বের প্রায় ৩৫টি দেশের নারী ক্রিকেটার অংশ নেবেন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফেয়ারব্রেক ও সৌদি ক্রিকেটের যৌথ উদ্যোগে ২০২৬ সাল থেকে সৌদি আরবে শুরু হবে উইমেনস ওয়ার্ল্ড টি–টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ। এটিই হবে দেশটির প্রথম পেশাদার নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। ধারণা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরেই টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়াতে পারে।
বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, প্রথম আসরটি দুই সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতায় থাকবে ছয়টি দল। প্রতিটি দলে থাকবেন ১৫ জন করে খেলোয়াড়। মোট ১৯ ম্যাচের টুর্নামেন্টে প্রথমে হবে রাউন্ড–রবিন পর্ব, এরপর দুটি সেমিফাইনাল ও একটি ফাইনাল।
খেলাধুলায় লিঙ্গসমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ফেয়ারব্রেক। এর আগে ২০২২ ও ২০২৩ সালে দুবাই ও হংকংয়ে তারা আয়োজন করেছিল ফেয়ারব্রেক গ্লোবাল ইনভাইটেশনাল টি–টোয়েন্টি। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টুর্নামেন্টটি আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
নারীদের ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিতে এবং ক্রীড়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই লিগ আয়োজন করা হচ্ছে। উইমেনস ওয়ার্ল্ড টি–টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ আয়োজনের মাধ্যমে ক্রিকেটের মানচিত্রে সৌদি আরবের উপস্থিতি আরও বড় হবে।
বৈশ্বিক ক্রিকেট অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় উদ্যোগ নিচ্ছে সৌদি আরব। ২০২৪ সালের আইপিএল নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে সৌদির জেদ্দা শহরে। পাশাপাশি আইপিএলের সঙ্গে সৌদি প্রতিষ্ঠানের রয়েছে বড় অঙ্কের স্পন্সর চুক্তি।
এসবের ধারাবাহিকতায়, আসন্ন মৌসুম থেকে সৌদি আরবে আয়োজন করা হবে আইএল টি-২০-এর কিছু ম্যাচ। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে অন্তত একজন সৌদি ক্রিকেটার রাখার নিয়ম থাকছে। একই সঙ্গে দেশটিতে শুরু হতে যাচ্ছে নারীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট লিগও।
নারী ক্রিকেটে এই নতুন অধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যের ক্রীড়া মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওএফ

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: